স্তন্যপায়ী প্রাণীদের শরীর সাধারণত ধূসর, বাদামি, সাদা বা কালচে রঙের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। বিপরীতে পাখি বা মাছের দেহে দেখা যায় উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় নানা রঙ। এই পার্থক্যের পেছনে রয়েছে জীববৈজ্ঞানিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ, যা প্রাণিজগতের বৈচিত্র্যকে ব্যাখ্যা করে।
প্রাণীর শরীরে রঙ তৈরি হয় মূলত দুইভাবে—রঞ্জক পদার্থ বা পিগমেন্টের মাধ্যমে এবং শরীরের বিশেষ গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে রঙের প্রধান উৎস একমাত্র পিগমেন্ট মেলানিন। এই মেলানিনের পরিমাণের ভিন্নতার কারণে কালো, বাদামি বা সাদা রঙ তৈরি হয়। অন্যদিকে পাখি ও মাছের শরীরে একাধিক ধরনের পিগমেন্ট থাকে, যা তাদের রঙকে করে তোলে আরও বৈচিত্র্যময়।
এছাড়া পাখির পালক ও মাছের আঁশের গঠন অত্যন্ত জটিল হওয়ায় আলো প্রতিফলিত হয়ে নানা উজ্জ্বল রঙ সৃষ্টি করে। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোম বা চুলে এমন জটিল গঠন না থাকায় সেখানে এ ধরনের আলোর প্রতিফলন ঘটে না। ফলে তারা উজ্জ্বল রঙ ধারণ করতে পারে না।
তবে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন ম্যান্ড্রিল নামের এক ধরনের বানরের মুখে লাল ও নীল রঙ দেখা যায়, যা মূলত লোমহীন ত্বকের কারণে তৈরি হয়। আবার স্লথের শরীরে সবুজ ছোপ দেখা গেলেও তা তাদের নিজস্ব রঙ নয়, বরং লোমে জন্মানো শৈবালের প্রভাব।
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের রঙিন না হওয়ার আরেকটি বড় কারণ তাদের দৃষ্টিশক্তি। অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণী ডাইক্রোম্যাটিক হওয়ায় তারা সীমিত রঙ দেখতে পায়। ফলে উজ্জ্বল রঙ তাদের জন্য ততটা কার্যকর নয়। উদাহরণ হিসেবে বাঘের গায়ের রঙ মানুষের চোখে উজ্জ্বল কমলা মনে হলেও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর কাছে তা ঘাসের মতো সবুজ দেখায়, যা শিকার ধরতে সহায়ক।
বেঁচে থাকার জন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীরা উজ্জ্বল রঙের বদলে প্যাটার্ন বা নকশার ওপর নির্ভর করে। অনেকেই নিশাচর হওয়ায় গাঢ় রঙ তাদের আড়াল করে রাখে। এতে শিকারি বা শিকারের চোখে সহজে ধরা পড়ে না।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণী অতিবেগুনি আলোতে ভিন্নভাবে দৃশ্যমান হয়। অর্থাৎ মানুষের চোখে তারা যতটা সাদামাটা মনে হয়, বাস্তবে তারা তার চেয়েও বেশি বৈচিত্র্যময় হতে পারে।
সিএ/এমআর


