ডিজিটাল সুবিধার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ক্রমেই অনলাইননির্ভর হয়ে উঠছে। এক ক্লিকেই প্রয়োজনীয় পণ্য ঘরে পৌঁছে যাওয়ার সুবিধা যেমন বেড়েছে, তেমনি এর আড়ালে তৈরি হয়েছে নতুন ধরনের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার অপরাধীরা এখন শুধু পাসওয়ার্ড নয়, ব্যবহারকারীর সম্পূর্ণ ডিজিটাল পরিচয় ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার জন্য আরও উন্নত কৌশল ব্যবহার করছে।
বর্তমানে ফিশিং ও ভুয়া অ্যাপের ফাঁদ সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরা নামী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মতো দেখতে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে এবং ডিসকাউন্ট কুপনের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীকে লিংকে ক্লিক করতে বাধ্য করে। অনেক সময় প্লে-স্টোরেও ভুয়া অ্যাপ দেখা যায়, যা ডাউনলোড করলে ডিভাইসে ম্যালওয়্যার প্রবেশের ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন কেনাকাটার সময় কার্ড তথ্য সেভ রাখা নিরাপদ নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের সার্ভার হ্যাক হলে ব্যবহারকারীর সংরক্ষিত তথ্য সহজেই চুরি হতে পারে। এছাড়া ‘ফেয়ার অব মিসিং আউট’ বা সুযোগ হারানোর ভয় কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা সীমিত সময়ের অফারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করে।
ডেলিভারি স্ক্যামও নতুনভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ফোন করে পার্সেল কনফার্মের নামে ওটিপি চাওয়া হয়, যা দিলে ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে অনেক অ্যাপ অপ্রয়োজনীয় পারমিশন নিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে, যা পরে অপব্যবহার হতে পারে।
প্রযুক্তিগতভাবে ‘ফর্মজ্যাকিং’ নামের আক্রমণও বাড়ছে, যেখানে পেমেন্ট পেজে লুকানো কোড ব্যবহার করে কার্ড তথ্য চুরি করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহারকারীদের ইনকগনিটো মোড বা নিরাপদ ব্রাউজার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ অনলাইন কেনাকাটার জন্য ইউআরএল যাচাই, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখা, অপরিচিত পেজে ক্যাশ অন ডেলিভারি ব্যবহার, রিভিউ যাচাই এবং পাবলিক ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চলা জরুরি। সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে সাইবার অপরাধ থেকে সুরক্ষা দিতে।
সিএ/এমআর


