কিছু দুর্ঘটনা মানুষের হৃদয়ে গভীর দাগ ফেলে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় বহু প্রাণহানিতে দেশজুড়ে শোক নেমে এসেছে।
এই আকস্মিক দুর্ঘটনা মানুষের মনে গভীর বেদনার জন্ম দিয়েছে। এমন মৃত্যু কারও কাম্য নয়। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের মৃত্যুর ভিন্ন তাৎপর্য রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী—প্রতিটি প্রাণীকেই এর স্বাদ গ্রহণ করতে হয়। ইসলামী দৃষ্টিতে মৃত্যুর ধরন শুধু বাহ্যিকভাবে নয়, এর অন্তরালে আল্লাহর বিশেষ হিকমাহ ও রহমত রয়েছে।
সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, পাঁচ ধরনের মৃত্যু শহীদের মর্যাদা পায়—মহামারিতে মৃত্যু, পেটের রোগে মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু এবং আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া। (বুখারি, হাদিস : ২৮২৯)
এই আলোকে পানিতে ডুবে মৃত্যু কেবল দুর্ঘটনা নয়; বরং আখিরাতের দৃষ্টিতে তা মর্যাদার প্রতীক হতে পারে। যদিও দুনিয়ার বিচারে এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক, তবু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এর মাধ্যমে বিশেষ প্রতিদান লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এ ধরনের শহীদদের দাফন-কাফন সাধারণ মুসলিমদের মতোই সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু তাদের জন্য আল্লাহর কাছে রয়েছে বিশেষ পুরস্কার।
এ ধরনের ঘটনা মানুষকে জীবনের অনিশ্চয়তা সম্পর্কে সচেতন করে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তাও স্মরণ করিয়ে দেয়।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোদের জন্য দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি জীবনের প্রতি সচেতন হওয়াই সময়ের দাবি।
সিএ/এমআর


