মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে মিছিল ও স্লোগানসহ পুষ্পস্তবক অর্পণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামীপন্থী ২৭ জন আইনজীবীর নামে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলায় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুই আইনজীবী হলেন মনীষ কান্তি দে (মিন্টু) ও মিজানুর রহমান (শামীম)। মনীষ কান্তি দে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি)। অন্যদিকে মিজানুর রহমান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য। মনীষ কান্তি দের বাড়ি শহরের নতুনপাড়া এলাকায় এবং মিজানুর রহমান সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বাদী সুনামগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনুরুল হক। দায়ের করা এজাহারে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এদের সবাই আইনজীবী এবং মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে শহরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে মিছিল ও স্লোগান দিয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে ফুল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ বলেন, যাঁরা স্মৃতিসৌধে মিছিল করেছেন এবং স্লোগান দিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ। তবু তাঁরা মিছিল করেছেন এবং স্লোগান দিয়েছেন। এছাড়া মিছিলের ছবি ও ভিডিও নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রচার করেছেন, যা আইন অনুযায়ী করা যায় না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্যরা আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারা মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়ে স্লোগান দিতে দিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় স্মৃতিসৌধে অন্য কোনো সংগঠনের উপস্থিতি ছিল না। মিছিলে প্রায় ২৩ থেকে ৩০ জন আইনজীবী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন পদধারী নেতাও ছিলেন। মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘স্বাধীনতার এই দিনে মুজিব তোমায় মনে পড়ে’, ‘শেখ শেখ শেখ মুজিব, লও লও লও সালাম’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
সিএ/এমই


