বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন মানুষের নিত্যদিনের অপরিহার্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে। তবে ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে অনেকেই সুযোগ পেলেই যেকোনো জায়গায় ফোন চার্জে লাগিয়ে দেন, যা অজান্তেই বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে শুধু ডিভাইসের ক্ষতিই নয়, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা নিরাপত্তা হুমকির সম্ভাবনাও থাকে।
পাবলিক ইউএসবি চার্জিং স্টেশনগুলো ব্যবহারকারীদের কাছে সহজ সমাধান মনে হলেও এগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। বিমানবন্দর, শপিংমল বা বাসস্ট্যান্ডের এসব পোর্টে “জুস জ্যাকিং” ধরনের সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে ফোনে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করানো হতে পারে, যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব।
অচেনা বা নিম্নমানের চার্জার ব্যবহার করাও বিপজ্জনক। নকল চার্জার ফোনের ব্যাটারির ক্ষতি করে এবং অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি করে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তিত চার্জারের মাধ্যমে ডেটা চুরির ঘটনাও ঘটে থাকে।
ভেজা বা আর্দ্র পরিবেশে ফোন চার্জ দেওয়া থেকেও বিরত থাকা জরুরি। বাথরুম বা রান্নাঘরের মতো জায়গায় পানি বিদ্যুতের পরিবাহক হিসেবে কাজ করে, ফলে শর্ট সার্কিট বা বৈদ্যুতিক শকের ঝুঁকি তৈরি হয়।
অনেকেই ঘুমানোর সময় বালিশের পাশে বা বিছানার নিচে ফোন চার্জে রাখেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস। চার্জিংয়ের সময় উৎপন্ন তাপ বিছানার কাপড়ে আটকে গিয়ে অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
এছাড়া নিম্নমানের মাল্টিপ্লাগ বা এক্সটেনশন বোর্ড ব্যবহার করলেও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে ফোনের সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নিরাপদ ব্যবহারের জন্য নিজের চার্জার ব্যবহার করা, সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগে চার্জ দেওয়া এবং প্রয়োজনে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সামান্য সচেতনতাই স্মার্টফোনকে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।
সিএ/এমআর


