ঈদের ছুটিতে অনেক পরিবার গ্রামে বা বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যায়। এ সময় শিশুরা নতুন পরিবেশে বেশি স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বিশেষ করে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা এই সময় বেশি ঘটে, তাই অভিভাবকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা জরুরি।
পানি শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির একটি। পুকুর, নদী বা সুইমিংপুলের কাছে কোনো অবস্থাতেই প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধান ছাড়া শিশুকে যেতে দেওয়া উচিত নয়। গ্রামে বড় বালতি বা ড্রামে পানি রাখা সাধারণ বিষয়, কিন্তু এগুলোও মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। কৌতূহলী শিশুরা পানির কাছে গিয়ে সহজেই পড়ে যেতে পারে এবং অল্প সময়েই শ্বাসরোধের ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিদ্যুতের তার ও সরঞ্জাম থেকেও শিশুকে দূরে রাখতে হবে। বাড়ির আশপাশে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকলে তা দ্রুত ঠিক করার ব্যবস্থা নিতে হবে। আগুন, গ্যাস বা গরম তরল থেকেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রান্নাঘর বা চুলার কাছে শিশুকে যেতে না দেওয়া এবং গরম পানি বা খাবার নিরাপদ স্থানে রাখা জরুরি।
এ ছাড়া শিশুরা অনেক সময় ছোট বস্তু মুখে দিয়ে ফেলে, যা গলায় আটকে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ওষুধ, রাসায়নিক দ্রব্য বা ছোট খেলনা তাদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
ঈদের সময় ভিড় ও নতুন পরিবেশে শিশুর হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই শিশুকে কখনো একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয় এবং অপরিচিত কারও কাছ থেকে কিছু না নেওয়ার বিষয়ে তাকে সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রাণী, ঝোপঝাড়, পুরোনো কুয়া বা উঁচু স্থান থেকেও তাকে দূরে রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দের মধ্যেও শিশুকে চোখের আড়াল না করাই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে।
সিএ/এমআর


