ছবি ব্যবহার করে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট তৈরি করার অভিযোগে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ায় তিন কিশোরীর পক্ষ থেকে ক্লাস অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এক্সএআইয়ের এআই টুল ‘গ্রক’ ব্যবহার করে তাদের ছবি বিকৃত করে আপত্তিকর ও যৌনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে।
গেল ডিসেম্বরে এক কিশোরী জানতে পারেন যে, তার এবং অন্যান্য অপ্রাপ্তবয়স্কের ছবি ও ভিডিও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন ডিসকর্ড ও টেলিগ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি পরিচিত পরিবেশে থাকলেও যৌনতামূলক ভঙ্গিতে বিকৃত করা হয়েছে এবং শিশুদের অন্যান্য যৌন নিপীড়নমূলক ছবির বিনিময়ে ‘পণ্য’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
মামলাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, টেনেসিতে বসবাসকারী তিন কিশোরী (গোপন নাম ‘জেন ডো ১, ২ ও ৩’) এই ঘটনায় প্রচণ্ড মানসিক কষ্ট ভোগ করেছেন। তাদের আইনজীবীরা বলছেন, এই ছবি ও ভিডিও তৈরির ফলে কিশোরীদের প্রাইভেসি, মর্যাদা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে এবং এক্সএআই এর টুলের জনপ্রিয়তার মাধ্যমে যে আর্থিক মুনাফা অর্জিত হয়েছে, তা কিশোরীদের জীবন ও সুস্থতার বিনিময়ে হয়েছে।
বাদীপক্ষ দাবি করেছেন, কিশোরীরা জীবনের বাকি সময় এই আতঙ্ক নিয়ে বাঁচতে বাধ্য হবেন যে, তাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নকারীদের মাধ্যমে পুনরায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। মামলায় বলা হয়েছে, আসলে এই ঘটনায় ‘হাজার হাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক’ টিনএজারের ছবি গ্রক ব্যবহার করে বিকৃত হতে পারে।
এ ছাড়া মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে যে, এক্সএআই শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নমূলক ছবি তৈরি ও প্রচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন লঙ্ঘন করেছে। এই মামলায় এনগ্যাজেটের মন্তব্য চাওয়ার পরও মাস্কের কোম্পানি কোনো সাড়া দেয়নি। বর্তমানে এক্সএআই সম্মতিহীন নগ্ন ছবি তৈরির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে একাধিক তদন্তের মুখে রয়েছে।
সিএ/এমআর


