ঈদ উৎসব ঘিরে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণায় লেখক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর জানিয়েছেন, পবিত্র এই উৎসব এলেই তার মনে ভেসে ওঠে মা রাবেয়া খাতুনের কথা। পারিবারিক আবহে কাটানো সেই দিনগুলোর স্মৃতি এখনও তার জীবনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।
তিনি জানান, ছোটবেলায় তাদের পরিবারে ঈদের প্রস্তুতি ছিল খুবই সাধারণ ও সংযমী। বিলাসিতা থেকে দূরে থেকে প্রতিটি সন্তানের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক কেনা হতো। বাবা-মা একদিন সময় বের করে সবাইকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটায় যেতেন।
একটি ঈদের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় তাদের জন্য বাটা কোম্পানির মোকাসিন জুতা কেনা হয়েছিল, যা ফিতা খুলে বা লাগিয়ে ভিন্নভাবে ব্যবহার করা যেত। এই ধরনের ছোট ছোট বিষয়ই শিশুদের আনন্দকে বাড়িয়ে দিত।
ঈদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বই উপহার পাওয়া। রাবেয়া খাতুন সন্তানদের জন্য বিভিন্ন গল্পের বই এনে দিতেন, যার মধ্যে ছিল গালিভারের ভ্রমণ কাহিনি, শার্লক হোমস, ট্রেজার আইল্যান্ডসহ আরও অনেক জনপ্রিয় রচনা। এসব বই ঈদের আনন্দকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলত।
ঈদের দিন ভোর থেকে শুরু হতো রান্নার আয়োজন। পোলাও, রোস্ট, সেমাই, পায়েসসহ নানা খাবার প্রস্তুত করতেন মা। পরিবারের সদস্যরা নতুন পোশাক পরে ঈদের নামাজে অংশ নিতেন এবং পরে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতেন।
তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে নতুন পোশাক গোপন রাখার এক ধরনের আনন্দ ছিল, যা বর্তমান সময়ে অনেকটাই হারিয়ে গেছে। সেই সময়ের পারিবারিক বন্ধন, সরলতা ও আন্তরিকতা আজও তার স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা করে আছে।
একইসঙ্গে তিনি মায়ের কর্মনিষ্ঠার কথাও স্মরণ করেন। সংসারের কাজের পাশাপাশি তিনি সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যেতেন এবং ঈদসংখ্যার জন্য নিয়মিত লিখতেন।
সিএ/এমআর


