পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের ভিড়ে নারায়ণগঞ্জে বাসসংকট দেখা দিয়েছে। এতে যাত্রীদের পরিবহন কাউন্টারগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন পরিবহনের বিরুদ্ধে। তবে যানবাহনের চাপ থাকলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এখনো তেমন যানজট তৈরি হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যদিকে পরিবহন কাউন্টারগুলোতে শত শত যাত্রী দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। অনেকেই সময়মতো টিকিট পাচ্ছেন না, আবার নির্ধারিত সময়েও বাস ছাড়ছে না।
রাজধানীর একটি ছাপাখানায় কর্মরত মাসুদ মিয়া পরিবারসহ ভৈরবে বাড়ি যাওয়ার জন্য সকাল ছয়টা থেকে কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস পাননি। পাশাপাশি যাত্রীপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সকাল থেকে সোয়া ৯টা পর্যন্ত সাইনবোর্ড এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে চলাচলকারী তিশা পরিবহনের তিনটি বাস ছেড়ে গেছে। তবে যাত্রীদের তুলনায় বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় কাউন্টারে অনেকেই অপেক্ষায় রয়েছেন। কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা শাহাদাত হোসেন বলেন, তিনটি বাস ছেড়ে গেলেও একটিতেও আসন খালি ছিল না। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে বুধবার (৫ ডিসেম্বর) পোশাক কারখানাগুলো ছুটি হওয়ায় যাত্রীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। ঢাকায় যানবাহন ঢোকা ও বের হতে সময় লাগার কারণে নির্ধারিত সময়ে বাস কাউন্টারে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে বাসের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি হয়ে পড়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদ উপলক্ষে আগাম বিক্রি হওয়া টিকিট ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এখন যাত্রীরা মূলত চলন্ত বা ‘রানিং’ বাসের ওপর নির্ভর করছেন, যা সময়মতো টার্মিনালে পৌঁছাতে পারছে না। নোয়াখালী রুটের সারা এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ মিঠু জানান, তাঁদের ছয়টি বাস ছেড়ে গেছে, কিন্তু যাত্রীর তুলনায় তা যথেষ্ট নয়।
অন্যদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, এই সুযোগে কিছু পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চাঁদপুরগামী যাত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সকাল সাতটা থেকে পরিবার নিয়ে বসে আছি। তিন ঘণ্টা হয়ে গেল, এখনো বাস আসেনি। ছোট বাচ্চা নিয়ে এই গরমে অপেক্ষা করা খুব কষ্টকর। আড়াই শ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।’
নারায়ণগঞ্জ দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মোট ২১টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় এই দুই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি। কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক বিষ্ণু পদ শর্মা বলেন, মহাসড়কে যানজট নেই এবং মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে।
সিএ/এমই


