ইসলামে রোজার গুরুত্ব ও মর্যাদা অন্য ইবাদতের তুলনায় বিশেষভাবে স্বতন্ত্র। অন্যান্য নেক আমলের নির্দিষ্ট প্রতিদান থাকলেও রোজার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা নিজেই এর প্রতিদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা এই ইবাদতের অনন্য মর্যাদা নির্দেশ করে।
হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘কিন্তু রোজা আলাদা। কেননা, তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় দেব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৯৪)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘বান্দা একমাত্র আমার জন্য তার পানাহার ও কামাচার বর্জন করে, রোজা আমার জন্যই, আমি নিজেই তার পুরস্কার দেব; আর (অন্যান্য) নেক আমলের বিনিময় হচ্ছে তার ১০ গুণ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৪)
ইমাম আওজায়ি (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, রোজার প্রতিদান নির্দিষ্ট কোনো পরিমাপে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা অগণিত ও অসীম হতে পারে।
রোজার এই বিশেষ মর্যাদার পেছনে অন্যতম কারণ হলো এর গোপনীয়তা। নামাজ, জাকাত বা হজের মতো ইবাদত প্রকাশ্য হলেও রোজা এমন একটি আমল, যা সম্পূর্ণভাবে বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।
একজন রোজাদার চাইলেই গোপনে রোজা ভঙ্গ করতে পারে, কিন্তু আল্লাহর ভয়ে তা থেকে বিরত থাকে। এই আন্তরিকতা ও সংযমই রোজাকে আলাদা মর্যাদায় উন্নীত করেছে।
রোজাদারদের জন্য কিয়ামতের দিন বিশেষ পুরস্কারের কথাও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। তৃষ্ণার দিনে পানি পান করানো এবং জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে রোজাদারদের জন্য।
ধৈর্য ও আত্মসংযমের মাধ্যমে রোজা মানুষকে আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত করে। এ কারণে ইসলামে রোজাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সিএ/এমআর


