কুমিল্লা নগরীতে একটি মন্দিরসহ একাধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখনও কাউকে আটক করা যায়নি। তবে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
পুলিশ জানায়, প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে মন্দিরে, পরে একই সড়কে আরও দুইটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের সনাক্ত ও আটক করার চেষ্টা চলছে।
রাত ১১টার দিকে ঢাকা থেকে আসা বোম ডিসপোজাল ইউনিট ইসকন মন্দির থেকে জব্দ করা একটি ব্যাগ লালমাই পাহাড় এলাকায় নিয়ে নিষ্কিয়করণ করেছে। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল আনোয়ার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পূর্বের ঘটনা অনুযায়ী, গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া (বাগানবাড়ী) কালী গাছতলা শিব মন্দিরে এবং পাশের এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে শিব মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী এবং পাশের রাস্তায় আরও তিনজন আহত হন। আহতদের কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ, র্যাব ও পিবিআই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে মুখোশ পরিহিত একজন ব্যাগ হাতে ইসকন মন্দিরে প্রবেশ করে। পাশে আরও কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ব্যাগ রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তি শিব মন্দির লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে, যা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এরপর আরও দুই-তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে, ফলে আরও তিনজন আহত হন।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সন্দেহভাজন চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহবায়ক শ্যামল কৃষ্ণ সাহা বলেন, মন্দির কর্তৃপক্ষ পুলিশ সঙ্গে বৈঠকে বসেছে এবং তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার তদন্ত করছে। ইসকন মন্দির ও কালী গাছতলা মন্দির কর্তৃপক্ষ সোমবার পৃথক দুটি মামলা দায়ের করবে।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের সনাক্ত ও আটক করার চেষ্টা চলছে। রবিবার রাত ১১টায় ঢাকা থেকে আসা বোম ডিসপোজাল ইউনিট লালমাই পাহাড়ে দুর্বৃত্তের রেখে যাওয়া ব্যাগ নিষ্কিয় করেছে। তবে ব্যাগে বোমা ছিল কি না তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সিএ/এমই


