মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা আবারও নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঝুঁকছেন। তবে কোন সম্পদ সত্যিই চাপের সময় স্থিতিশীলতা দিতে পারে, তা নিয়ে বিতর্ক নতুনভাবে শুরু হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ ধরা হয় এমন অনেক সম্পদ এবার অপ্রত্যাশিতভাবে আচরণ করছে। একদিকে স্বর্ণের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে গত বছর দুর্বল থাকা মার্কিন ডলার আবার শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে এসেছে।
চলতি সপ্তাহে নিরাপদ বিনিয়োগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করেছে মার্কিন ডলার। ডলার সূচক, যা ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান দেখায়, এই সপ্তাহে প্রায় ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুইস ফ্রাঙ্ক ও জাপানি ইয়েনের বিপরীতেও ডলার শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন জ্বালানি রফতানিকারক দেশ হওয়ায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের বেশি হলে ডলারের অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হয়। মরগান স্ট্যানলির বৈদেশিক মুদ্রা কৌশল বিভাগের প্রধান জেমস লর্ড বলেন, ডলারের কিছু নিরাপদ বৈশিষ্ট্য আছে, তবে তা পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রযোজ্য।
সরকারি বন্ডের প্রতি আগ্রহ কমেছে। সাধারণত ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ বাড়ে, তবে এবার সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। বিনিয়োগকারীরা বন্ডের নিরাপত্তার চেয়ে মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। জার্মানির ১০ বছরের বন্ডের ফলন এই সপ্তাহে প্রায় ১৪ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। র্যাথবোনসের স্থায়ী আয়ের প্রধান ব্রাইন জোন্স বলেন, ঋণ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে জার্মান বন্ডে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
স্বর্ণের অবস্থান এখনও শক্তিশালী। এই দশকে স্বর্ণের দাম প্রায় ২৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্বর্ণের দামও অস্থির। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাড়ার কারণে কিছু বিনিয়োগকারী স্বর্ণ বিক্রি করেছিলেন। স্টেট স্ট্রিট ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের গোল্ড স্ট্র্যাটেজি প্রধান আকাশ দোশি বলেন, বর্তমান প্রবণতা থাকলে ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের তুলনায় ৬ হাজার ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেশি।
দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে পরিচিত সুইস ফ্রাঙ্ক ও জাপানি ইয়েন এই সপ্তাহে যথাক্রমে প্রায় ১.২ শতাংশ এবং ০.৮ শতাংশ কমেছে। সেন্ট জেমস প্লেসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা জাস্টিন ওনুয়েকউসি বলেন, জাপানি ইয়েন মূল্যায়নের দিক থেকে আকর্ষণীয় হতে পারে, তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ইয়েনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা ফ্রাঙ্কের উত্থান সীমিত করছে। গোল্ডম্যান শ্যাক্সের কৌশলবিদ টেরেসা আলভেস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের ঝুঁকি ফ্রাঙ্কের নিরাপদ আশ্রয়ের বৈশিষ্ট্য কিছুটা কমিয়েছে।
প্রতিরক্ষামূলক শেয়ারও অস্থির। মার্কিন ইউটিলিটি খাত এই সপ্তাহে প্রায় ১ শতাংশ এবং ভোক্তা নিত্যপণ্যের খাত প্রায় ২.৮ শতাংশ কমেছে। ইউরোপেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে বিনিয়োগকারীরা অবকাঠামো ও শিল্পখাতে বেশি বিনিয়োগ করেছিলেন, যার কারণে প্রতিরক্ষামূলক খাতের শেয়ার তুলনামূলকভাবে কমেছে।
সিএ/এসএ


