ভারত মহাসাগরে ডুবে যাওয়া একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজের জীবিত নাবিকদের ইরানে ফেরত না পাঠাতে শ্রীলঙ্কার সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার রয়টার্সের হাতে আসা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ তারবার্তায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী গ্যাল থেকে প্রায় ১৯ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন সাবমেরিন ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা ডুবিয়ে দেয়। ওই ঘটনায় কয়েক ডজন নাবিক নিহত হন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা আরেকটি ইরানি জাহাজ নৌ সহায়ক আইআরআইএস বুশেহর থেকে ২০৮ জন ক্রু সদস্যকে নামানো শুরু করে। জাহাজটি শ্রীলঙ্কার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে আটকা পড়েছিল, যদিও তা দেশটির সামুদ্রিক সীমার বাইরে অবস্থান করছিল।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে জানিয়েছেন, বিপদে পড়া নাবিকদের গ্রহণ করা তার দেশের মানবিক দায়িত্বের অংশ। তাই তাদের সহায়তা দিতে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে এসেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ডেনা জাহাজে টর্পেডো হামলাকে কোয়াইট ডেথ বলে বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার ভৌগোলিক বিস্তার আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
কলম্বোয় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেইন হাওয়েল জানিয়েছেন, ৬ মার্চ তারিখের পররাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ তারবার্তায় শ্রীলঙ্কা সরকারকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে বুশেহর জাহাজের ক্রু অথবা ডেনা জাহাজ থেকে বেঁচে যাওয়া ৩২ জন ব্যক্তিকে ইরানে ফেরত পাঠানো উচিত নয়।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম বিষয়ক উপমন্ত্রী হানসাকা উইজেমুনি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান ডেনা জাহাজে নিহত নাবিকদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে কলম্বোর কাছে সহায়তা চেয়েছে। তবে সেই প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে বা কত সময় লাগবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ডেনা যুদ্ধজাহাজটি গত মাসে বঙ্গোপসাগরে ভারতের আয়োজিত একটি নৌ মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। পরে ইরানে ফিরে যাওয়ার পথে মার্কিন টর্পেডোর আঘাতে জাহাজটি ডুবে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
সিএ/এসএ


