রমজানে রোজা পালনের সময় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—ভুল করে যদি সময়ের আগে ইফতার করে ফেলা হয়, তাহলে রোজার কী হবে। সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে যদি কেউ ভুলবশত আগে কিছু খেয়ে ফেলেন, সে ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়তে এর বিধান কী—এ বিষয়ে আলেমরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, কেউ যদি সূর্যাস্ত হয়ে গেছে মনে করে ভুলবশত সময়ের আগে ইফতার করে ফেলেন, তাহলে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী তার রোজা ভেঙে যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে ভুলের কারণে তার কোনো গুনাহ হবে না।
এ অবস্থায় রোজা ভেঙে যাওয়ার কারণে তাকে পরবর্তীতে সেই দিনের রোজা কাজা করতে হবে। তবে কাফফারা দিতে হবে না বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামী বিদ্বানরা।
এ প্রসঙ্গে একটি বর্ণনায় এসেছে, আলী ইবনে হানজালা তার বাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রোজার মাসে একদিন ইফতারের সময় ওমরের (রা.) কাছে ছিলেন। সবার সামনে পানীয় পেশ করা হলো। উপস্থিতদের কেউ কেউ সূর্য ডুবে গেছে ভেবে তা পান করে ফেলল। এরপর মুআজ্জিন আওয়াজ দিল, হে আমীরুল মুমিনীন! সূর্য এখনো ডোবেনি। তখন ওমর (রা.) বললেন, যারা ইফতারি করে ফেলেছে, তারা একটি রোজা কাজা করবে। আর যারা ইফতারি করেনি তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৯১৩৮)
আরেক বর্ণনায় হজরত ইবনে জুরাইজ (রহ.) বলেন, আমি আতাকে (রহ.) জিজ্ঞেস করলাম, রমজানের এক মেঘাচ্ছন্ন দিনে সময় হয়েছে মনে করে ইফতার করেছি। এরপর সূর্য দেখা গেল। এখন আমি কি শুধু ওই দিনের রোজার কাজা করব, না আমাকে কাফফারাও আদায় করতে হবে? আতা (রহ.) বললেন, শুধু কাজা করবেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৯১৪৭)
একইভাবে সুবহে সাদিক হয়নি মনে করে কেউ যদি সুবহে সাদিকের পর সেহরি খেয়ে ফেলেন, তাহলে সেই রোজাটিও সহিহ হবে না। এ ক্ষেত্রে রমজানের পর ওই দিনের রোজা কাজা করতে হবে, তবে কাফফারা দিতে হবে না।
এ বিষয়ে আরেক বর্ণনায় আউন (রহ.) থেকে বলা হয়েছে, মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রহ.) রাত বাকি আছে ভেবে সেহরি করেছিলেন। পরে জানতে পারেন যে তিনি সুবহে সাদিকের পর সেহরি করেছেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমি আজ রোজাদার নই।’ অর্থাৎ এ রোজাটি হয়নি এবং পরে তা কাজা করতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৬/১৪৯)
সিএ/এমআর


