যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের জবাবে ইরানের পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও পুঁজিবাজারে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে, একই সঙ্গে ইউরোপে গ্যাসের মূল্যও রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। এশিয়ার পুঁজিবাজারে নেমেছে বড় ধরনের ধস।
বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বুধবার (৪ মার্চ) সকালে আরও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ৪৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে মোট ১৪ শতাংশ।
ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশ। কাতারের বিস্তৃত এলএনজি স্থাপনায় সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে যাওয়ায় গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে এই প্রণালির মাধ্যমেই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল-গ্যাস পরিবহন হয়।
এদিকে বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে বিস্তর অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৮ শতাংশ কমেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৩.৬ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচকে ১.৮ শতাংশ পতন রেকর্ড করা হয়েছে।
বাজার অনিশ্চয়তায় ডলারের প্রতি আস্থা বেড়েছে। ডলার সূচক দশমিক ২ শতাংশ বাড়িয়ে ৯৯ দশমিক ২৮-এ পৌঁছেছে, যা তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। অপরদিকে ইউরোর মান দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ ডলার ১৫ সেন্টে নেমেছে। একই হারে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য কমে দাঁড়িয়েছে ১ ডলার ৩৩ সেন্ট।
ভার্চুয়াল মুদ্রায়ও পরিবর্তন এসেছে। বিটকয়েনের দাম বেড়ে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধিতে দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৫৮৫ ডলারে।
সিএ/এসএ


