মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ইসরাইল লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায়, যাতে অন্তত ১০ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১৯ জন আহত হয়েছেন। আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। হামলার মূল কেন্দ্র ছিল লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির দক্ষিণাঞ্চল।
ইরান–ইসরাইল পরিস্থিতির উত্তেজনার মধ্যেই ভোরে বৈরুতের হাজমিয়েহ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি বোমা হামলা হয়। কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হামলার কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, এ হামলার লক্ষ্য হতে পারে কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে টার্গেট করে গুপ্তহত্যা। তবে ইসরাইল কার বিরুদ্ধে হামলা করেছে—তা স্পষ্ট করেনি।
হাজমিয়েহ ও বাবদা এলাকার মাঝামাঝি অবস্থিত একটি হোটেলেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যদিও হতাহত সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এর আগে রাতভর পরিচালিত পৃথক হামলায় দক্ষিণ লেবাননের সাদিয়াত গ্রামে আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং আটজন আহত হন।
এছাড়া সিরিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত পূর্বাঞ্চলীয় শহর বালবেকে আরেকটি আবাসিক ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের জন্য ইসরাইল নতুন করে ১৩টি গ্রাম ও শহর খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন তালিকায় কানা, কেফার কিলা ও মাজদাল জাওনসহ আরও বেশ কয়েকটি এলাকা রয়েছে। এর আগে আরও ১৬টি এলাকার বাসিন্দাদের সরতে বলা হয়, আর তার আগের দিন ৫০টির বেশি বসতি খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরাইলি বাহিনী। এসব ধারাবাহিক সতর্কতায় সীমান্ত অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা চরমে পৌঁছেছে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালায়, যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে থাকে। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত।
এ অবস্থায় লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ জানায়, তারা উত্তর ইসরাইল ও গোলান মালভূমিতে তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে রকেট ও ড্রোন হামলা করেছে। তাদের দাবি, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে টানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লেবাননে হামলা চালাচ্ছে—তারই জবাবে এই অভিযান।
হামলার পর ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে স্থল অভিযান শুরু করেছে। তাদের দাবি, উত্তরাঞ্চলের বসতিগুলোকে নিরাপদ রাখতে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য।
সূত্র: আল জাজিরা
সিএ/এসএ


