চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ পরিবারের নয় সদস্যের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বেঁচে থাকা তিন শিশু এখনো জানে না, তাদের মা–বাবা আর নেই। তারা রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের একমাত্র প্রত্যাশা—অন্তত একটি প্রাণ হলেও যেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ফ্ল্যাটে তখন তিন ভাই, বড় ও মেজ ভাইয়ের দুই স্ত্রী এবং তাঁদের চার সন্তান অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণে নয়জনই দগ্ধ হন। প্রথমে তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিন ভাই—শাখাওয়াত হোসেন (৪৯), সামির আহমেদ (৪০) ও শিপন হোসেন (৩০), তাঁদের দুই স্ত্রী এবং বড় ভাইয়ের এক ছেলে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বড় ভাইয়ের মেয়ে উম্মে আইমান (১০), মেজ ভাইয়ের ছেলে ফারহান আহমেদ (৬) ও মেয়ে আয়েশা (৪)।
হাসপাতালে শিশুদের দেখাশোনা করছেন তাঁদের ফুফাতো ভাই নাজমুল হাসান (২৫)। ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনিও হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তো হতাশার মধ্যে পড়ে গেছি। তা–ও হাসপাতালে পড়ে আছি, একটা প্রাণ হলেও যাতে বাড়ি ফেরত নিতে পারি।’
শিশুদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করছেন শাখাওয়াত হোসেনের ফুফাতো ভাই মো. জামশেদ। তবে চিকিৎসা শেষে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নাজমুল বলেন, ‘ওদের তো কেউ থাকল না। মামারা বলে গেছে, আমাদের যদি কিছু হয়ে যায়, ওরা দাদির কাছে থাকবে।’ শিশুদের দাদি খোদেজা আক্তারের বয়স প্রায় ৭০ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। শিশুদের নানা বেঁচে নেই। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ বাড়ছে।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তিন শিশুরই একাধিক ধাপে অস্ত্রোপচার হয়েছে। ফারহানকে কেবিনে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে। উম্মে আইমানের দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে, হাতে আরও একটি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা। সবচেয়ে ছোট আয়েশার অবস্থা তুলনামূলক জটিল। গতকাল থেকে তার জ্বর রয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সোমেন সেন বলেন, ‘আনাসের (ফারহান আহমেদ) শরীরের ১৯ শতাংশ আগুনে পুড়ে গেছে (ফ্লেম বার্ন)। আজ তাকে কেবিনে নেওয়া হবে। স্নিগ্ধের (উম্মে আইমান) শরীরের ৩০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গেছে। আগামীকাল তার একটা অপারেশন হবে। আয়েশা এখনো বিপদমুক্ত হয়নি। গতকাল রাত থেকে জ্বরও আসছে।’
চিকিৎসক সূত্র জানায়, শিশুদের আইসিইউতে নিতে হয়নি। সংক্রমণ এড়াতে তাদের বিশেষায়িত ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। তবে এখনো কেউ পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয়।
সিএ/এমই


