আর সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটগুলোকে মূলধারার বাইরে ভাবা হতো। সেই সময় ফোর্বস ম্যাগাজিনে কর্মরত এক সাংবাদিক ও তাঁর সহকর্মীরা তৈরি করেছিলেন এক অভিনব ডিজিটাল উদ্যোগ—‘ইমেইল টাইম ক্যাপসুল’।
বিজ্ঞাপন চুক্তির অংশ হিসেবে যোগাযোগ বিষয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব আসে। নেটওয়ার্কিং যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রচলিত ধারার লেখা না করে তাঁরা ভিন্ন পথে হাঁটেন। কল্পবিজ্ঞান লেখক আর্থার সি. ক্লার্কের প্রবন্ধ, নোয়াম চমস্কির ভাষা নিয়ে মতামত, জেন গুডঅলের প্রাইমেট যোগাযোগ বিশ্লেষণ এবং স্ট্যান লির শব্দ-ছবির ব্যবহার নিয়ে ভাবনা—সব মিলিয়ে প্রতিবেদনটি হয়ে ওঠে ব্যতিক্রমী।
এর পাশাপাশি তৈরি করা হয় একটি অনলাইন টুল, যেখানে পাঠকরা নিজেদের ভবিষ্যৎ সত্তার কাছে ইমেইল লিখে নির্দিষ্ট সময় পর তা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারতেন। এক, তিন, পাঁচ, দশ কিংবা বিশ বছর—সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল। উদ্যোগটি ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং লাখো ইমেইল জমা পড়ে।
তবে চ্যালেঞ্জ ছিল সংরক্ষণ ও নির্ধারিত সময়ে পাঠানো। তিনটি আলাদা প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে কপি রেখে একটি স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম চালু করা হয়। কিন্তু অল্প সময়েই বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবর্তন, কর্মী ছাঁটাই ও মালিকানা বদলের কারণে পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত একটি ছোট আইটি প্রতিষ্ঠানের মালিক গ্যারিসন হফম্যান একাই বছরের পর বছর ইমেইল পাঠানোর দায়িত্ব পালন করেন।
দশ বছর পরও প্রকল্পটি টিকে ছিল তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে। কিন্তু মাত্র ৪৬ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু বড় ধাক্কা হয়ে আসে। তবুও তিনি কোড ও সার্ভারের সব তথ্য সংরক্ষণ করে গিয়েছিলেন। সেই প্রস্তুতির ফলেই বিশ বছর পর প্রায় ১৮ হাজার মানুষ নিজেদের অতীতের কাছ থেকে ইমেইল পান।
এই অভিজ্ঞতা থেকে একটি শিক্ষা স্পষ্ট হয়েছে—প্রযুক্তির স্থায়িত্ব নয়, মানুষের সম্পর্ক ও দায়বদ্ধতাই দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পকে বাঁচিয়ে রাখে। বিশাল ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান হারিয়ে গেলেও এক বন্ধুর একাগ্রতা সময়ের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
সিএ/এমআর


