হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় প্রশাসনের আয়োজিত এক সভায় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে প্রধান অতিথি করার ঘটনায় বিতর্কের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)–কে বদলি করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ বদলি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন দেকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। একই দিনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। সোমবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার উম্মে সালিক রুমাইয়া এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ তানভীর হাসান স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে বদলির তথ্য জানানো হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে বদলির নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন প্রথম আলোকে বলেন, এটি রুটিন ওয়ার্ক। সভার জন্য বদলি করা হয়েছে, এটি ঠিক নয় বলে দাবি তাঁর।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাহুবল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় হবিগঞ্জ-1 আসনের সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া প্রধান অতিথির আসনে বসেন এবং বক্তব্য দেন। সভা-সংশ্লিষ্ট একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
ছবিতে দেখা যায়, সিমি কিবরিয়ার এক পাশে ইউএনও লিটন দে এবং অন্য পাশে এসি ল্যান্ড মাহবুবুল আলম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বসে আছেন। সরকারি প্রশাসনিক সভায় কোনো জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যকে প্রধান অতিথি হিসেবে আসন দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। সমালোচকদের মতে, সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী প্রশাসনিক সভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা ও আসনবিন্যাস নির্ধারিত থাকে এবং অনির্বাচিত ব্যক্তির এমন অবস্থান প্রথাবহির্ভূত।
যদিও বদলির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানানো হয়নি, স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সভা-পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা হয়।
সিএ/এমই


