ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি জানিয়েছেন, সরকার আইনি পন্থায় ফ্যাসিস্টদের বিচার করতে বদ্ধপরিকর।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটানোর জন্য অনেক রক্তের মূল্য দিতে হয়েছে। আমরা মাত্র এক সপ্তাহ ক্ষমতায় এসেছি এবং সমস্ত সমস্যার সমাধান করা হবে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করা হলে সরকার তা মেনে নেবে না। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় যারা অপরাধ করেছে, তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় দায়িত্বশীল পথে অগ্রসর হচ্ছে। আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এই রূপরেখায় সরকার এগিয়ে চলবে। মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যা আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল আকারে পেশ করা হবে।
নরসিংদী ধর্ষণ মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাগুরার আছিয়া হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছিলেন। নরসিংদী ও ঝিনাইদহের শিশু তাবাসসুম হত্যা মামলাও দ্রুত বিচার পাবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা দুর্নীতিতে লিপ্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি বরাদ্দ জনগণের জন্য, তাই প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তির চাকরি যাবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হবে। মাদকের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাস, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এবং সামাজিক অস্থিরতা প্রতিরোধে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নিতে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কমিশন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। ঝিনাইদহে যারা চাঁদাবাজি, কমিশন বাণিজ্য বা রাজনৈতিক হুমকিধমকি দিয়ে ভাগ বসানোর চেষ্টা করেন, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


