চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে মুখোশধারী কয়েকজন দুর্বৃত্ত এ হামলা চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, এর আগে একটি বিদেশি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে মুজিবুর রহমানের কাছে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার পর পুলিশ জানায়, হামলার সঙ্গে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ও তার অনুসারীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীরা বাড়ির পেছন দিক থেকে গুলি চালিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান বলেন, জানুয়ারিতে গুলি করার পর থেকে পরিবার নিয়ে ট্রমার মধ্যে আছি। এখন ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে ব্যাংক লোন শোধ করে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। আর কোনো উপায় তো দেখছি না।
তিনি আরও বলেন, এভাবে তো জীবন চলে না। ঘরের নারী, শিশুরা বেশ ট্রমার মধ্যে আছে।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আজাদ বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও শিল্পপতি মুজিবের বাড়ির পেছন থেকে সন্ত্রাসীরা গুলি করেছে। আমাদের ফোর্স ছিল বাড়ির সামনের অংশে।
তিনি বলেন, গুলি করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তারা পালিয়ে যায়। আমরা তাদের শনাক্ত করা চেষ্টা করছি।
মুজিবুর রহমান স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি একাধিকবার বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি তার বাড়িতে এসে গেট ও পেছনের অংশ লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। সেসময় হামলাকারীদের সবার মুখে মাস্ক ছিল বলে জানা যায়। সাম্প্রতিক এই হামলার সঙ্গে আগের ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সিএ/এএ


