মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা Elon Musk-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট Claudia Sheinbaum। মাদক চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন। খবর আরটির।
গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মাস্ক সামাজিক মাধ্যমে শেইনবাউমকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এর আগে মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (Jalisco New Generation Cartel) নেতা Nemesio Oseguera Cervantes নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের একটি পোস্টে শেইনবাউম মাদক চক্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তাব নাকচ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে মাস্ক পাল্টা মন্তব্য করেন।
এক ভিডিওতে শেইনবাউম বলেন, নার্কোদের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধ শুরু করা কোনো সমাধান নয়; এতে বিচার ছাড়াই হত্যার অনুমতি দেওয়া হবে। জবাবে মাস্ক লেখেন, তিনি ‘কার্টেল বসদের কথাই বলছেন’ এবং অবাধ্য হলে শাস্তি আরও কঠোর হবে বলে ইঙ্গিত দেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের শেইনবাউম জানান, মাস্কের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং তার আইনজীবীরা বিষয়টি পরীক্ষা করছেন। তিনি বলেন, তাকে ‘নার্কো-সরকার’ চালানোর অভিযোগ করা পুরোপুরি অযৌক্তিক ও হাস্যকর।
গত সপ্তাহে জালিস্কোর তাপালপায় যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর যৌথ অভিযানে ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস, যিনি ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত, নিহত হন। তার নেতৃত্বাধীন সংগঠনটি মেক্সিকোর সবচেয়ে শক্তিশালী মাদক পাচার নেটওয়ার্কগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই গোষ্ঠী বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিল, কোকেন ও মেথামফেটামিন সরবরাহ করে। ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন সংগঠনটিকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
এই অভিযানের পর জালিস্কোসহ কমপক্ষে নয়টি অঙ্গরাজ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে জ্বলন্ত গাড়ি, ভবনের ধোঁয়া, সড়ক অবরোধ, গাড়িতে আগুন দেওয়া ও লুটপাট চালানোর দৃশ্য দেখা যায়। এ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Felipe Calderón কার্টেল ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন। এতে বিভিন্ন গ্যাং ভেঙে গিয়ে সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পায়, যা এখনও দেশটির উচ্চ হত্যার হারের অন্যতম কারণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
শেইনবাউম বলেন, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে সাম্প্রতিক অভিযান মানে আগের মতো সর্বাত্মক যুদ্ধনীতিতে ফিরে যাওয়া নয় বলেও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
সূত্র: আরটি
সিএ/এসএ


