কক্সবাজারের টেকনাফে গভীর সমুদ্রে এক ট্রলারের জালে ধরা পড়েছে ১ হাজার ১০০টি লাল কোরাল মাছ। প্রতিটি মাছের ওজন চার থেকে ছয় কেজির মধ্যে। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে মাছগুলো বিক্রি হয়েছে ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। এতে উচ্ছ্বসিত ট্রলারের মালিক ও জেলেরা।
ট্রলারটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কাইয়ুকখালী ঘাটে পৌঁছালে মাছ কেনার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এর আগে বিকেলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের শীলেরকুম এলাকায় জাল ফেলেন ট্রলারের ১৫ জন জেলে। প্রায় এক ঘণ্টা পর জাল তুলতেই বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল ধরা পড়ে।
ট্রলারের মালিক টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ মিজান জানান, ১ হাজার ১০০টি লাল কোরালের মোট ওজন প্রায় ১২০ মণ হয়েছে। শুরুতে ৪৫ লাখ টাকা দাম হাঁকা হলেও শেষ পর্যন্ত ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এতে প্রতি মণ মাছের দাম দাঁড়ায় ২৬ হাজার টাকা, কেজিপ্রতি প্রায় ৬৫০ টাকা।
ট্রলারের মাঝি রহমত উল্লাহ বলেন, কয়েক দিন ধরে উপকূলে জাল ফেলেও তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণে মাছ ধরতে গেলে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আরাকান আর্মির পক্ষ থেকে গুলি ছোড়া ও জেলেদের আটক করার ঝুঁকি থাকে। ঝুঁকি নিয়েই তাঁরা শীলেরকুম এলাকায় জাল ফেলেন এবং ভাগ্য সহায় হয়।
ট্রলারের জেলে সলিম উল্লাহ জানান, রাত আটটার দিকে তাঁরা টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেন এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘাটে পৌঁছান।
ঘাটে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রশিদ আহমদ প্রতি মণ ২৬ হাজার টাকা দরে মাছগুলো কিনে নেন। তিনি বলেন, মোট ১২০ মণ মাছের জন্য ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ৭০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি সম্ভব বলে জানান তিনি। অধিকাংশ মাছ ট্রাকে করে ঢাকায় পাঠানো হবে।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকার একটি ট্রলারের জালে ৬৮৭টি লাল কোরাল ধরা পড়ে, যা ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম বলেন, লাল কোরাল সুস্বাদু মাছ হিসেবে পরিচিত। আগে হাটবাজারে প্রচুর পাওয়া গেলেও এখন তুলনামূলক কমে গেছে। একটি লাল কোরাল সর্বোচ্চ ৯ কেজি পর্যন্ত ওজনের হতে পারে।
সিএ/এমই


