ফ্রান্সের একটি আদালত পিএসজি ক্লাবের মরক্কান ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় বিচার শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে হাকিমি জানিয়েছেন, তিনি শান্তভাবে ‘সত্য প্রকাশ্যে আসার’ অপেক্ষায় আছেন।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে হাকিমির নিজের বাসভবনে এক ২৪ বছর বয়সী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ফরাসি বিচারব্যবস্থা ২০২৩ সালের মার্চে হাকিমির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ (préliminaire) আনে। ফরাসি আইনে এই ধরণের অভিযোগ মানে হলো–পর্যাপ্ত সন্দেহ থাকলেও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিচার শুরু হবে কিনা, তার আগে আরও অনুসন্ধানের সুযোগ রাখা।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে হাকিমির আইনজীবী ফ্যানি কলিন ও প্যারিসের উপশহর নঁতের প্রসিকিউটর নিশ্চিত করেছেন যে মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) হাকিমি লিখেছেন, ‘এখন এমন অবস্থায় এসেছে যে শুধু ধর্ষণের অভিযোগই বিচারের জন্য যথেষ্ট। এটি যেমন নির্দোষদের জন্য অন্যায়, তেমনি প্রকৃত ভুক্তভোগীদের প্রতিও অবিচার। আমি শান্তভাবে বিচারের অপেক্ষায় আছি, যেখানে সত্য প্রকাশ্যে আসবে।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী র্যাচেল-ফ্লোর পার্দো বলেন, তার মক্কেল স্বস্তির সঙ্গে মামলাটি বিচারে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত মামলার নথিতে থাকা প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হাকিমির আইনজীবী কলিন দাবি করেছেন, অভিযোগ কেবল ওই নারীর বক্তব্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি জানান, বাদী তদন্তে সহযোগিতা করেননি, চিকিৎসা পরীক্ষা ও ডিএনএ পরীক্ষায় রাজি হননি, মোবাইল ফোন তদন্তকারীদের দেননি এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এছাড়া দুটি পৃথক মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নে অভিযোগের বর্ণনায় অস্পষ্টতা এবং ট্রমা-পরবর্তী উপসর্গের অনুপস্থিতি পাওয়া গেছে।
পার্দো বলেন, “বিচারব্যবস্থা এই ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলকভাবে কাজ করছে, তবে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট দেখায় যে পুরুষদের পেশাদার ফুটবলের জগতে এখনও ‘মি টু’ আন্দোলনের প্রভাব পুরোপুরি পৌঁছায়নি।”
মামলা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে পিএসজির কোচ লুইস এনরিক বলেন, ‘বিষয়টি বিচারব্যবস্থার হাতে।’ মোনাকোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি। হাকিমি দলের সহ-অধিনায়ক পদে বহাল আছেন কিনা—এই প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি।
সিএ/এসএ


