হাসিনা সরকারের পতনের পর অর্থনীতির অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় দেড় বছর বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চালানোর পর এখন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইউনূস সরকারের কাছ থেকে বিএনপি সরকার কোন অবস্থায় অর্থনীতি দায়িত্ব নিয়েছে, তা জনগণের সামনে আনতে নতুন করে আরেকটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা প্রয়োজন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর ওই মাসের শেষ দিকে দেশের অর্থনীতির সার্বিক অবস্থা জানতে একটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের এই কমিটি তিন মাস কাজ করে ডিসেম্বরের প্রথম দিনে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে গত দেড় দশকে দুর্বল হয়ে পড়া অর্থনীতির নানা সংকট তুলে ধরা হয়।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন কমিশন ও টাস্কফোর্স গঠন করে সংস্কার শুরু করে। এখন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্বাচিত বিএনপি সরকার কোন ভিত্তি থেকে অর্থনীতি পেয়েছে, অনিয়ম বন্ধে আগের সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং কোথায় ঘাটতি ছিল—তা জানাতে নতুন শ্বেতপত্র অপরিহার্য।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের চেষ্টা করলেও সংশ্লিষ্টদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করার কারণে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। তার মতে, সক্ষমতা বাড়াতে পারলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে সঠিক স্থানে নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগের শ্বেতপত্রে তখনকার অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছিল। এখন বাজেট সংশোধন, নতুন বাজেট প্রণয়ন বা পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শুরু করার আগে বর্তমান অর্থনীতির অবস্থান ও দুর্বলতা বুঝে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণের আগে বর্তমান ভিত্তি পরিষ্কারভাবে জানা উচিত।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির মনে করেন, শুধু এবার নয়—প্রতিবার নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে, এমনকি একই দল ক্ষমতায় থাকলেও, অর্থনীতির একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। তার প্রস্তাব, স্বাধীন কমিশন বা টাস্কফোর্স গঠন করে শ্বেতপত্র তৈরি করলে আগের সরকারের সাফল্য, ব্যর্থতা, দুর্নীতি, অদক্ষতা বা যেকোনো বিতর্কিত দিক স্পষ্ট হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর যে অতিরিক্ত চাপ আসবে, তা মোকাবিলা করাও অনেক সহজ হবে।
সিএ/এসএ


