ইউক্রেনে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ান বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির নৃশংসতা ও ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন রাশিয়ার কয়েকজন সৈন্য। তাদের মধ্যে দুজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, সামান্য আদেশ অমান্য করলেই সহযোদ্ধাদের ঘটনাস্থলেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে—এমন দৃশ্য তারা নিজের চোখে দেখেছেন। রুশ সৈন্যদের দাবি, কমান্ডাররা বহুবার নিজেরাই সহকর্মীদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিবিসির তথ্যচিত্র ‘দ্য জিরো লাইন: ইনসাইড রাশিয়া’স ওয়ার’-এ এসব সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়। তথ্যচিত্রে দেখা যায়, রাশিয়ার বাইরে এক অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করে পলাতক এসব সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ করা ভয়াল অভিজ্ঞতার কথা জানান।
তাদের একজন জানান, তিনি একজন সৈন্যকে তার কমান্ডারের আদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখেছেন—ওই কমান্ডারকে ২০২৪ সালে রাশিয়ার নায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ৩৫ বছর বয়সী ইলিয়া নামে ওই ব্যক্তি যুদ্ধের আগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষকতা করতেন। তিনি বলেন, তিনি চারজন সৈন্যকে খুব কাছ থেকে গুলি করতে দেখেছেন। রাশিয়ান সামরিক ভাষায় যাকে বলা হয় ‘জিরোইং’—সামনের সারি থেকে পালিয়ে যাওয়া বা ফিরে আসতে অস্বীকৃতি জানানো সেনাদের জন্য শাস্তিমূলক মৃত্যুদণ্ড।
জিরোইং শুধু শাস্তিই নয়, বরং অন্যদের ভয় দেখানোর উপায় বলেও তারা জানান। মৃত্যুদণ্ড প্রত্যক্ষকারী অন্য এক ব্যক্তি ডিমা বলেন, কমান্ডারদের নিজেদের লোক হত্যা করা অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়। তার ভাষায়, ‘আমি এটা দেখেছি। মাত্র দুই-তিন মিটার দূরত্বে। শুধু খুন—ক্লিক, ক্ল্যাক, ব্যাং। এটা কোনো নাটক নয়, কোনো সিনেমা নয়, বাস্তব জীবন।’ তিনি বলেন, তিনি নিহত সৈন্যদের চিনতেন এবং তাদের একজন মৃত্যুর আগে চিৎকার করে বলছিল—‘গুলি করো না, আমি সবকিছু করব।’
আরেকজন জানান, তিনি এক পর্যায়ে একটি গর্তে প্রায় ২০ জন সহযোদ্ধার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন—যারা সবাই ‘জিরোড’ হয়েছিল। ‘জিরোড’ রাশিয়ান সামরিক শব্দ, যার অর্থ নিজের বাহিনীর হাতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া।
‘দ্য জিরো লাইন: ইনসাইড রাশিয়া’স ওয়ার’ তথ্যচিত্রে তারা আরও বর্ণনা করেন, যুদ্ধে না যেতে চাইলে কীভাবে তাদের নির্যাতন করা হত। যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে দুর্বল করতে রুশ সেনাদের সামনের সারিতে ঠেলে দেওয়া হত। রুশ সৈন্যরা এসব আক্রমণকে বলতেন ‘মাংসের ঝড়’।
এদিকে রাশিয়ান সরকার জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী উচ্চ-তীব্রতার সংঘাতে সর্বোচ্চ সংযম ও সতর্কতার সাথে কাজ করে এবং সৈন্যদের যথাযথভাবে যত্নে রাখে। কথিত লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো তদন্ত করা হয় বলেও জানানো হয়।
সিএ/এসএ


