কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে বন্দি থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসান জিহাদী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন আবেদন শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেন।
হাসান জিহাদীর স্ত্রী সৈয়দা আইরিন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, জামিনের জন্য আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর বিকেলে তিনি কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এর আগে গত রোববার একই আদালত হাসান জিহাদীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের বিচারক মো. মমতাজুল করিম এই আদেশ দিয়েছিলেন।
মুক্তির পর হাসান জিহাদীকে কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হলে জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে বরণ করেন। হাসান জিহাদী রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের রাজিকুল ইসলামের ছেলে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ সরিষাবাড়ী এলাকায় বিএনপির নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, হাসান জিহাদী ও তাঁর সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় টিনের বেড়া ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটে। পরে শহিদুল ইসলাম রাজারহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসান জিহাদীর সমর্থকেরা। তারা দাবি করেন, উচ্চ শব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা অসুবিধায় পড়লে হাসান জিহাদী আপত্তি জানান। এরপর শহিদুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালান এবং পরে নিজেদের বাড়ির আসবাব এলোমেলো করে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করেন।
সিএ/এমই


