বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) বা তৈরি পোশাকশিল্প অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী খাত। আর এই খাতের প্রাণ বলা হয় মার্চেন্ডাইজিংকে। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে হাজারো তরুণের স্বপ্নের ক্যারিয়ার এই ক্ষেত্র। একটি অর্ডারের সফলতা নির্ভর করে একজন পেশাদারের দক্ষতা, বিচক্ষণতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ওপর।
বাইরে থেকে চাকচিক্যময় মনে হলেও এই পেশার ভেতরে রয়েছে অবিরাম শেখার প্রক্রিয়া, চাপ সামলানো ও বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা। আসুন ধাপে ধাপে জেনে নিই কিভাবে এই প্রতিযোগিতামূলক অঙ্গনে সফল হওয়া সম্ভব।
নিজের পথ চিনুন
ক্যারিয়ার গ্রোথের কোনো ‘ম্যাজিক ফর্মুলা’ নেই। প্রতিটি প্রেক্ষাপট আলাদা। অন্যের দেখাদেখি না করে নিজের সক্ষমতা বুঝুন। আপনি কি কাস্টমার ডিলিংয়ে পটু, নাকি টেকনিক্যাল প্রোডাকশনে? নিজের শক্তির জায়গা চিনতে পারলেই সত্যিকারের গ্রোথ শুরু হবে।
মার্চেন্ডাইজিং মানে শুধু ই-মেইল চালাচালি নয়
অনেকেই মনে করেন মার্চেন্ডাইজিং মানে সুন্দর ইংরেজিতে ই-মেইল করা। বাস্তবতা হলো ফ্যাব্রিক, ট্রিমস, প্রাইসিং, লিড টাইম ও কমপ্লায়েন্স সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ছাড়া পূর্ণাঙ্গ মার্চেন্ডাইজার হওয়া সম্ভব নয়। প্রোডাকশন লাইফ সাইকেলের প্রতিটি ধাপ বোঝা অপরিহার্য।
ফ্যাক্টরি ফ্লোর হলো আসল ক্লাসরুম
ডেস্ক জবে বসে প্রোডাকশন সমস্যা বোঝা যাবে না। যে মার্চেন্ডাইজার ফ্যাক্টরি ফ্লোরে সময় দেয়, তিনিই বোঝেন অর্ডারের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ কোথায়। ফ্লোরের জ্ঞান থাকলে বায়ারকে বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব হয়, যা পেশাদারত্ব বৃদ্ধি করে।
প্রথম ৫ বছর: স্যালারি নয়, স্কিল আগে
ডিগ্রির চেয়ে আরএমজি সেক্টরে দক্ষতার দাম বেশি। শুরুতে বেতন নিয়ে বেশি চিন্তা না করে কাজ শেখার দিকে মনোযোগ দিন। দক্ষতা অর্জনের পর বেতন নিজেই বেড়ে যাবে।
অর্ডার লাইফ সাইকেল বুঝুন
ভবিষ্যৎ লিডার হতে হলে শুধু নিজের ডেস্কের কাজ বোঝা যথেষ্ট নয়। অর্ডার ইনকোয়ারি থেকে শিপমেন্ট পর্যন্ত পুরো প্রসেস আয়ত্ত করতে হবে। প্রতিটি ধাপের ধারণা বড় সিদ্ধান্ত নিতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
কমিউনিকেশন স্কিল মানে শুধু ইংরেজি নয়
কমিউনিকেশন মানে হলো আপনার কথাটি বায়ার বা প্রোডাকশন টিমকে কতটা স্পষ্টভাবে বোঝাতে পারছেন। সত্য কথা বলা, সঠিক সময়ে তথ্য শেয়ার করা এবং স্পষ্টবাদিতা—এটাই মূল কমিউনিকেশন।
ভুল থেকে শিক্ষা নিন
ক্যারিয়ারের শুরুতে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। একটি ভুল মানে ক্যারিয়ার শেষ নয়। যারা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে সংশোধন করেন, তারাই একসময় সিনিয়র পজিশনে পৌঁছান।
ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও সততা
এই তিনটি গুণ মার্চেন্ডাইজিংয়ে বাধ্যতামূলক। একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা অবহেলা পুরো শিপমেন্টকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই প্রতিটি পদক্ষেপে দায়িত্বশীল হোন।
সফলতার ‘সিক্রেট’
ক্যারিয়ারের কোনো পর্যায়ে নিজেই বোঝা যাবে সফলতার আসল রহস্য। পরিপক্বতা রাতারাতি আসে না; এটি অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের ফসল।
সিএ/এসএ


