ভোরের নরম আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি।
ক্যাম্পাসের গাছপালা, রাস্তা আর ভবনগুলো যেন নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে—ইতিহাসের আরেকটি দিনের সাক্ষী হতে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর জিরো পয়েন্টে একে একে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। কারও হাতে প্ল্যাকার্ড, কারও চোখে দৃঢ়তা—সবার কণ্ঠে একই দাবি: স্বীকৃতি, অধিকার এবং মাতৃভাষার মর্যাদা।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, চবি সংসদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বক্তারা বলেন, এই দেশের পাহাড়ে-সমতলে বসবাসরত নানা আদিবাসী জাতিসত্তার ভাষা ও সংস্কৃতি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও নীতিগত উদ্যোগ ছাড়া এই বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাদের দাবি—আদিবাসী শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হোক, যাতে তারা নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠতে পারে।
কেউ বলছিলেন, “ভাষা শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়—এটা ইতিহাস, স্মৃতি আর অস্তিত্বের নাম।”
আরেকজনের কণ্ঠে শোনা যায়, “সংবিধানে স্বীকৃতি না থাকলে আমরা যেন নিজের দেশেই অদৃশ্য হয়ে যাই।”
বক্তারা আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা শুধু একটি ভাষার জন্য নয়—সব ভাষার মর্যাদার জন্য। তাই দেশের সব জাতিসত্তার ভাষা ও সংস্কৃতিকে সমানভাবে সম্মান জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
কর্মসূচির আগে শহীদ মিনার থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত একটি সংক্ষিপ্ত মিছিল করা হয়। নীরব পদচারণায় যেন শোনা যাচ্ছিল বহু অজানা ভাষার গল্প—যেগুলো বাঁচতে চায়, শোনা যেতে চায়, স্বীকৃতি পেতে চায়।
সিএ/এসএ


