রমজান মাস এলেই আমাদের মনে ভেসে ওঠে রোজা রাখা, তারাবির নামাজ, সাহরি ও ইফতারের আয়োজনের কথা। এসব আমল নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর পাশাপাশি রমজানের একটি নীরব ও গভীর দিক রয়েছে, যা আমরা অনেক সময় গুরুত্ব দিই না। তা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিছু কাজ থেকে বিরত থাকা।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, ইবাদত কেবল দৃশ্যমান কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং আল্লাহর জন্য সচেতনভাবে কোনো কিছু বর্জন করাও বড় ইবাদত। রোজার মূল উদ্দেশ্য ক্ষুধার্ত থাকা নয়, বরং তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করা।
ইসলামে রোজার তিনটি স্তরের কথা বলা হয়েছে। সাধারণ স্তরে মানুষ পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকে। এর পরের স্তরে চোখ, কান, জিহ্বা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে পাপ থেকে সংযত রাখা হয়। আর সর্বোচ্চ স্তরে অন্তরকে সব ধরনের নেতিবাচক চিন্তা ও আল্লাহ থেকে বিমুখকারী বিষয় থেকে মুক্ত রাখা হয়।
রমজান আমাদের কথা ও আচরণে সংযম শেখায়। গিবত, পরনিন্দা, অহেতুক তর্ক থেকে বিরত থাকা এই মাসের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। একই সঙ্গে আধুনিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তি থেকেও সংযম জরুরি।
ব্যস্ত জীবনে কর্মজীবী, গৃহিণী কিংবা শিক্ষার্থীদের জন্য রমজানের আমল ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। কর্মক্ষেত্রে সততা, সংসারের কাজে ধৈর্য এবং পড়াশোনায় নিষ্ঠা—সবই ইবাদতের অংশ হয়ে উঠতে পারে, যদি তা সঠিক নিয়তে করা হয়।
রমজান শেষে যদি এই সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অভ্যাস আমাদের জীবনে স্থায়ী হয়, তবেই এই মাসের শিক্ষা সার্থক হবে।
সিএ/এমআর


