ইসলামের ইতিহাসে ২ রমজান একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ৭০২ হিজরির এই দিনে সিরিয়ার শাকহাব প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল এমন এক যুদ্ধ, যা মুসলিম সভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছিল। সেই যুদ্ধে মঙ্গোল বাহিনীর অপ্রতিরোধ্য আগ্রাসন রুখে দিয়ে মুসলিমরা ইতিহাসের এক নতুন মোড় তৈরি করে।
সপ্তম হিজরি শতকে মঙ্গোলদের আক্রমণে আব্বাসীয় খেলাফত ও আইয়ুবীয় সালতানাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। যদিও আইন জালুতের যুদ্ধে মঙ্গোলরা পরাজিত হয়েছিল, তবুও সিরিয়া ও মিশর দখলের তাদের আকাঙ্ক্ষা থামেনি। সুলতান আল-নাসির মুহাম্মদ ইবনে কালাউনের শাসনামলে এই সংকট চূড়ান্ত রূপ নেয়।
মঙ্গোল নেতা গাজান খানের নির্দেশে সেনাপতি কুতলুশাহ বিশাল বাহিনী নিয়ে সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হন। হামা দখল করে তারা দামেস্কের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। পুরো মুসলিম বিশ্ব তখন গভীর উৎকণ্ঠায় ছিল।
শাকহাবের যুদ্ধ কেবল সামরিক সংঘর্ষই নয়, বরং আদর্শিক লড়াইও ছিল। এই যুদ্ধে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বৈধতা ব্যাখ্যা করেন এবং সৈন্যদের মনোবল জাগিয়ে তোলেন। এমনকি যুদ্ধের শক্তি সঞ্চয়ের জন্য রোজা ভাঙার অনুমতিও দেন।
১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত এই যুদ্ধে শুরুতে মুসলিম বাহিনী চাপে পড়লেও সুলতান আল-নাসির মুহাম্মদের দৃঢ় নেতৃত্বে তারা ঘুরে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত মঙ্গোল বাহিনী পরাজিত হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মঙ্গোল আগ্রাসনের স্থায়ী অবসান ঘটে।
ইতিহাসবিদদের মতে, শাকহাবের এই বিজয় না হলে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মানচিত্র ভিন্ন হতে পারত।
সিএ/এমআর


