প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ক্রু–১২ মিশন এবং বহুল আলোচিত আর্টেমিস–২ মিশনে এই সুবিধা কার্যকর হতে যাচ্ছে। পৃথিবী থেকে লাখো মাইল দূরে অবস্থান করেও নভোচারীরা মহাকাশ অভিযানের নানা মুহূর্ত সরাসরি ধারণ ও শেয়ার করতে পারবেন, যা আগের তুলনায় ভ্রমণগুলোকে আরও বিস্তারিতভাবে নথিবদ্ধ করবে।
নাসা জানিয়েছে, ক্রু–১২ মিশন আগামী সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। অন্যদিকে, আর্টেমিস–২ মিশনের মাধ্যমে প্রায় ছয় দশক পর মানুষ আবার চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছাবে। এই মিশনের সময়সূচি পিছিয়ে এ বছরের মার্চে নির্ধারণ করা হয়েছে।
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, নভোচারীদের পরিবারের জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত ধরে রাখা এবং বিশ্বের মানুষের সঙ্গে অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য। আধুনিক আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করে তারা দ্রুত ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারবেন।
এ সিদ্ধান্তকে নাসার প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরেও একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ মহাকাশযাত্রায় নতুন কোনো প্রযুক্তি অনুমোদন পাওয়া সাধারণত কঠিন। সামান্য যান্ত্রিক সমস্যাও মহাকাশ অভিযানে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এত দিন এসব মিশনে মূলত পুরোনো প্রযুক্তির ডিএসএলআর ক্যামেরা ও গোপ্রো ব্যবহার করা হতো।
তবে স্মার্টফোন ব্যবহারে যে স্বতঃস্ফূর্ততা ও তাৎক্ষণিকতা রয়েছে, তা অন্য কোনো ডিভাইসে সহজে পাওয়া যায় না। নাসার মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আধুনিক হার্ডওয়্যারকে মহাকাশ উপযোগী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কক্ষপথ ও চাঁদের পৃষ্ঠে বিজ্ঞান ও গবেষণা পরিচালনায় সহায়ক হবে।
এর আগে বেসরকারি মহাকাশ অভিযানে স্পেসএক্স ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি দিলেও নাসার সরকারি মিশনে এটি প্রথম উদ্যোগ।
সিএ/এমআর


