জরায়ুমুখের ক্যান্সার শনাক্তের প্রচলিত পরীক্ষাপদ্ধতি অনেক নারীর কাছেই অস্বস্তিকর ও ভীতিকর বলে বিবেচিত হয়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, পিরিয়ডের রক্ত ব্যবহার করেই নির্ভুলভাবে জরায়ুমুখের ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। গবেষকদের মতে, এ পদ্ধতি ভবিষ্যতে ক্যান্সার পরীক্ষার একটি সহজ, ব্যথাহীন ও বিকল্প উপায় হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সাধারণ স্যানিটারি প্যাডের ওপর বিশেষ এক ধরনের স্ট্রিপ ব্যবহার করে ‘হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস’ বা এইচপিভি শনাক্ত করা সম্ভব। এই ভাইরাসই জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিসেবে পরিচিত। গবেষকদের দাবি, নারীরা চাইলে ঘরে বসেই এই স্ট্রিপ ব্যবহার করে নমুনা সংগ্রহ করতে পারবেন।
বর্তমানে জরায়ুমুখ পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের কাছে গিয়ে যোনিপথ থেকে ব্রাশের সাহায্যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এ প্রক্রিয়াকে অনেক নারীই অস্বস্তিকর মনে করেন, ফলে অনেকে নিয়মিত স্ক্রিনিং করাতে আগ্রহী হন না। নতুন এই পদ্ধতি সেই বাধা দূর করতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
চীনের গবেষকরা জরায়ুমুখের কোষের অস্বাভাবিকতা শনাক্তে পিরিয়ডের রক্ত এবং চিকিৎসকের নেওয়া নমুনার কার্যকারিতা তুলনা করেছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এসব অস্বাভাবিকতাকে ‘সিআইএন টু’ ও ‘সিআইএন থ্রি’ বলা হয়, যা শনাক্ত হলে চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
এই গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল বিএমজে-তে। গবেষণায় চীনের হুবেই প্রদেশের ৩ হাজার ৬৮ জন নারী অংশ নেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নিয়মিত পিরিয়ড হওয়া নারীদের নিয়ে এ গবেষণা পরিচালিত হয়।
পরীক্ষার জন্য প্রত্যেক নারী তিন ধরনের নমুনা দেন। একটি স্যানিটারি প্যাড ও বিশেষ স্ট্রিপের মাধ্যমে সংগৃহীত পিরিয়ডের রক্ত, দ্বিতীয়টি চিকিৎসকের সংগ্রহ করা জরায়ুমুখের নমুনা এবং তৃতীয়টি ল্যাব পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সংগৃহীত অতিরিক্ত নমুনা।
গবেষণায় দুটি দিক মূল্যায়ন করা হয়। একটি হলো সেনসিটিভিটি, যা দিয়ে বোঝা যায় পরীক্ষাটি কতটা সঠিকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারে। অন্যটি স্পেসিফিসিটি, যা দিয়ে বোঝা যায় সুস্থ ব্যক্তিকে কতটা নির্ভুলভাবে আলাদা করা যায়।
ফলাফলে দেখা গেছে, প্যাড থেকে নেওয়া নমুনার সেনসিটিভিটি ছিল ৯৪ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে চিকিৎসকের নেওয়া নমুনার সেনসিটিভিটি ছিল ৯২ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পিরিয়ডের রক্তভিত্তিক পদ্ধতিটি তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর।
স্পেসিফিসিটির ক্ষেত্রে প্যাড পদ্ধতি কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও নেগেটিভ ফল এলে ব্যক্তি সুস্থ কি না, সে নিশ্চয়তায় উভয় পদ্ধতিতেই প্রায় সমান ফল পাওয়া গেছে। উন্নত পরীক্ষার ক্ষেত্রেও দুই পদ্ধতিতে কাছাকাছি ফল মিলেছে।
গবেষকরা বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার পরীক্ষার বিকল্প বা আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে স্যানিটারি প্যাড থেকে নেওয়া পিরিয়ডের রক্ত ব্যবহার কার্যকর ও ব্যথাহীন হতে পারে।
এ বিষয়ে ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপক সোফি ব্রুকস বলেন, ক্যান্সার স্ক্রিনিং আরও সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে এ ধরনের গবেষণা আশাব্যঞ্জক। তবে তিনি সতর্ক করে জানান, গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও বড় পরিসরে পরীক্ষা প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


