ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৩ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই এক ব্যতিক্রমী ও জনবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা বা উৎসবের পথে না হেঁটে, দায়িত্ব পালনের প্রথম কর্মসূচী হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের সেবাকেন্দ্র—চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক হাসপাতালে উপস্থিত হন। তিনি সরাসরি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের শয্যাপাশে গিয়ে তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। রোগীরা তাদের সমস্যার কথা সরাসরি নবনির্বাচিত এমপির কাছে তুলে ধরেন।
পরিদর্শনের এক পর্যায়ে তিনি হাসপাতালের রান্নাঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে রোগীদের জন্য প্রস্তুতকৃত খাবারের মান, পরিবেশন পদ্ধতি এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। খাবারের পুষ্টিগুণ এবং রান্নার পরিবেশ যাতে শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত হয়, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেন।
হাসপাতালের টয়লেট, পানি সরবরাহ এবং সামগ্রিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “হাসপাতাল হবে রোগীবান্ধব; এখানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন এমপি মানিক। সভায় হাসপাতালের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকট এবং রোগীদের ভোগান্তি নিরসনে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন,আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি তাদের সেবা করার জন্য। হাসপাতাল এমন একটি জায়গা, যেখানে মানুষ সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় আসে। এখানে কোনো ধরনের অব্যবস্থা বা অবহেলা আমি বরদাশত করব না। রোগীদের মানসম্মত খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং মানবিক সেবা নিশ্চিত করা আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
দায়িত্ব গ্রহণের পর সংসদ সদস্যের এমন কর্মতৎপরতায় সাধারণ মানুষ ও রোগীদের স্বজনদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, জনসেবার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে চাঁদপুরের স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
শিমুল অধিকারী সুমন, চাঁদপুর
সিএ/এমআর


