ঢাকা: বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে রমজানের মাহাত্ম্য ও তার বিধিবিধান নিয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, কুরআন নাযিলের মাস রমজানকে যথাযথভাবে কদর করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব।
খতিব আরও বলেন, অনেক মসজিদে তারাবিহ নামাজে কিছু ভক্ত মাত্র ৮ বা ১০ রাকাত নামাজ পড়েই বের হয়ে যান। ইতিহাসে দেখা যায়, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে সাহাবায়ে কেরামের সময় ২০ রাকাত নামাজ পড়া হতো। করোনার কারণে ২০১৯ সালে কিছুটা স্বল্প রাকাতের নামাজ আদায় করা হলেও, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় তারাবিহ নামাজ অবশ্যই ২০ রাকাতই পড়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, রমজান মাসে আল্লাহ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। নবী করিম (সা.) রমজানে দানশীলতার মাধ্যমে উদাহরণ স্থাপন করেছেন। তাই রোজাদারদের বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত, ইস্তেগফার পাঠ এবং দান-সদকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। গরিব, অসহায় রোজাদার ও গাজাবাসীদের জন্য সম্ভবপর পরিমাণে দান ও সাহায্য প্রদান করা প্রত্যেকের কর্তব্য। ইফতার পার্টির চেয়ে নেক আমলের জন্য ইফতার মাহফিল আয়োজন করা বেশি প্রযোজ্য।
খতিব উল্লেখ করেন, রমজান আগেই অনেক সময়ে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যারা কৃত্রিমভাবে বাজারে সিন্ডিকেট গঠন করে দাম বৃদ্ধি করবেন, আল্লাহ তা’আলা তাদের কঠোর শাস্তি দেবেন। দ্রব্যমূল্য বাড়ানো একটি বড় জুলুম এবং এটি কবরের গুনাহের মধ্যে পড়ে।
মিরপুরের বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী বলেন, মাহে রমজান হলো তাকওয়া অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাস। তাকওয়া অর্জনের মূল দিক হলো পবিত্র কুরআনের অনুসরণ। রমজান মাসে কুরআন নাযিল হওয়ায় এটি মুসলমানদের জন্য অন্যতম গাইডলাইন।
তিনি কুরআনের সূরা বাকারা থেকে উদ্ধৃত করেন, হে মুমিনগণ তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। রোজাদারের জন্য শুধু পানাহার পরিত্যাগ নয়, চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে গুনাহ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। মদ, জুয়া এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব।
খতিব বলেন, রমজান মাসে দিনের বেলায় হোটেল ও রেস্তোরাঁতে মদ, জুয়া বা অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত। গান, বাজনা, অশ্লীলতা এবং শরীয়ত বিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে বিরত রেখে অন্যদেরও উৎসাহিত করতে হবে। নিজের ন্যায়বিচার ও দায়িত্বের মধ্যে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করাই তাকওয়া অর্জনের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, মাহে রমজানে নামাজ, জিকির, তেলাওয়াত এবং দানের মাধ্যমে জান্নাতি পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। আল্লাহ আমাদের সকলকে এ মহান মাসের পূর্ণ সুবিধা গ্রহণের তওফিক দান করুন।
টঙ্গী পূর্ব আরিচপুর সরকার বাড়ী ঈদগাহ মসজিদুল আকসার খতিব মাওলানা রিয়াদুল ইসলাম মল্লিক বলেন, রমজানুল মুবারক হলো কুরআন নাযিলের মাস। এ মাসে কুরআন মজীদ লাওহে মাহফূয থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয় এবং রাসূলে করিম (সা.) এর কাছে সর্বপ্রথম ওহী আসে। কুরআন বলেন, রমজান হলো সে মাস যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত। এ মাসে রহমতের দরজা উন্মুক্ত ও শয়তান শৃঙ্খলিত।
খতিব আরও উল্লেখ করেন, মাহে রমজানে রোযা রাখা ফরজ, রাতের বিশেষ আমল হলো কিয়ামে রমজান তথা বিশ রাকাত নামাজ। দান-সদকা সর্বদা মহৎ কাজ, তবে রমজানে এর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়।
মুগদা ব্যাংক কলোনি রসুলবাগ জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, আল্লাহ তাআলা রোজার মাধ্যমে মুমিনদের তাকওয়া অর্জনের সুযোগ দিয়েছেন। তবে শর্ত হলো রোজা হতে হবে পাপাচার মুক্ত। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজার সময় মিথ্যা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে না, তার পানাহারের কোনো গুরুত্ব নেই। রমজানের রোজা ও ইবাদত পূর্বের গুনাহ মাফ করতে সাহায্য করে, শর্ত হলো তা হতে হবে ঈমানের সাথে।
উত্তর মান্ডা বাইতুন নূর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ জীবনপুরী বলেন, রমজান হলো বরকত ও মাগফেরাতের মাস। মানবদেহের প্রাকৃতিক চাহিদা ও রূহের মধ্যে সঙ্গতি রেখে আল্লাহ এই মাসে সিয়াম ফরজ করেছেন। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) উল্লেখ করেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গরমের দিনে রোজা রাখা হলে ফেরেশতারা সেই ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহ ক্ষমা করে দেন
সিএ/এমআর


