নরম তুলতুলে শরীর, কালো গোল চোখ আর নিশ্চুপ উপস্থিতি—এই বৈশিষ্ট্যগুলোই টেডি বিয়ারকে ভালোবাসার প্রতীকে পরিণত করেছে। শুরুতে শিশুদের খেলনা হিসেবে জনপ্রিয় হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টেডি বিয়ার ছোট-বড় সবার আবেগের অংশ হয়ে ওঠে। একসময় পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে প্রেমের উপহার হিসেবে টেডি বিয়ারের প্রচলন শুরু হয়।
ভালোবাসার ফুল শুকিয়ে যায়, চকলেট শেষ হয়ে যায়, কিন্তু টেডি বিয়ার থেকে যায়—এই ভাবনা থেকেই বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে এটি ভালোবাসার স্মারক উপহার হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। ভালোবাসা দিবস, জন্মদিন কিংবা বিশেষ কোনো দিনে প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার তালিকায় টেডি বিয়ার এখনো শীর্ষে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, টেডি বিয়ারের নরম পরশ মানুষকে নিরাপত্তা ও প্রশান্তির অনুভূতি দেয়। এটি এমন এক সঙ্গী, যে হাসি-কান্না বা অভিমানে কোনো বিচার করে না। নিঃসঙ্গ মুহূর্তে টেডি বিয়ার অনেকের কাছে মানসিক সাপোর্ট হিসেবেও কাজ করে।
টেডি বিয়ারের ইতিহাসও আবেগঘন। ১৯০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের একটি শিকারসংক্রান্ত ঘটনার কার্টুন থেকেই টেডি বিয়ারের ধারণার জন্ম। সেই কার্টুন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিউইয়র্কের দোকানি মরিস মিচটম নরম খেলনা ভালুক তৈরি করেন এবং নাম দেন টেডিস বিয়ার। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে টেডি বিয়ার বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
আজ শত বছর পরও টেডি বিয়ার শুধু খেলনা নয়, বরং ভালোবাসা পাওয়ার এক নীরব প্রতীক হিসেবেই রয়ে গেছে।
সিএ/এমআর


