জামালপুর শহরের পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশের তল্লাশিচৌকির কাছে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ লোকজন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর ও একটি পিকআপ ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা জামালপুর–শেরপুর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) দুপুরে জামালপুর–শেরপুরের ব্রহ্মপুত্র সেতুর দক্ষিণ পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ দেলোয়ার মাহমুদ (৫০) ও তাঁর ছেলে ইসতিয়াক আহম্মেদ (২০)। দেলোয়ারের ছোট ছেলে মোহাম্মদ আবরার (৫) গুরুতর আহত অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দেলোয়ার মাহমুদ চাকরির সুবাদে জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের কেন্দুয়ারচর এলাকায়। ইসতিয়াক আহম্মেদ নারায়ণগঞ্জের রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে দেলোয়ার দুই ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন।
পুলিশ জানায়, সকাল থেকে পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় তল্লাশিচৌকি বসানো ছিল। বেলা দেড়টার দিকে পুলিশের সংকেত পেয়ে দেলোয়ার তাঁর মোটরসাইকেল থামান। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দেলোয়ার ও ইসতিয়াক মারা যান। আহত আবরারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
দুর্ঘটনার পরপরই নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজনা বাড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধদের একাংশ পুলিশের সদস্যদের মারধর ও একটি পিকআপ ভাঙচুর করেন। প্রায় ৩০ মিনিট পুলিশ সদস্যরা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। বেলা দুইটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ থাকায় সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
নিহত দেলোয়ার মাহমুদের নাতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিন জামালপুরের পুলিশ সেতুর দক্ষিণ পাশে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি করে। আজকে শুক্রবার। তা–ও, তাদের চাঁদাবাজি বন্ধ ছিল না। চেকপোস্টে পুলিশ প্রথমে তাঁদের দাঁড়াতে বলে, তাঁরা সেখানে দাঁড়ায়। এ সময় পুলিশ আরও ট্রাককে দাঁড়াতে বলে, সেই ট্রাক না দাঁড়িয়ে তাঁদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা মারে। আবার পাশেই থাকা আরেক ট্রাকের সামনে গিয়ে ধাক্কা লেগে গুরুতর আঘাত লাগে। তখনো তাঁরা জীবিত ছিল। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা তাঁদের ধরেন নাই এবং হাসপাতালেও নিয়ে যাননি। উল্টো তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এতেই আমার নানা ও মামার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের চাঁদাবাজির কারণেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।’
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, ‘ঘটনাস্থলেই আমরা আছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। এই মুহূর্তে কিছুই বলার সুযোগ নেই।’
সিএ/এমই


