টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে এক কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় করা মামলার বাদীকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলার গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আদিল খানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী মো. সুজন মিয়া। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) তিনি মির্জাপুর থানায় এ অভিযোগ দাখিল করেন।
থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন কলেজছাত্র ইমন। তিনি ১৪ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান। ঘটনার প্রায় ১৭ মাস পর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর উপজেলার ভানুয়াবহ গ্রামের বাসিন্দা মো. সুজন মিয়া টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করার আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মো. গোলাম মাহবুব খান ১ জানুয়ারি মামলাটি আমলে নিয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। ওই মামলায় মো. আদিল খান ৩১ নম্বর আসামি।
অভিযোগে সুজন মিয়া উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর ৩৫ দিন বয়সী ভাতিজার জন্মনিবন্ধন করাতে তিনি গোড়াই ইউপি কার্যালয়ে যান। সেখানে উপস্থিত আদিল খান তাঁর কাছে মামলা করার কারণ জানতে চান। পাশাপাশি মামলা থেকে তাঁর নাম প্রত্যাহার না করলে ইউপি কার্যালয় থেকে কোনো ধরনের সেবা দেওয়া হবে না বলেও জানান।
সুজন মিয়ার দাবি, জন্মসনদ সংক্রান্ত কাজে গেলে আদিল খান তাঁর ওপর চড়াও হন এবং মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন এবং গলা চেপে ধরেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দ্রুত মামলা প্রত্যাহার না করলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
তবে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মো. আদিল খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি তাকে অনুরোধ করে বলেছি, ভাই তুমি আহত হওয়ার পর তোমার যখন অভাব ছিল আমি তোমাকে আর্থিক সহযোগিতাসহ সব ধরনের সহায়তা করেছি। আমার অপরাধ না থাকার পরও কেন তুমি মামলা করলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার নামে যে অভিযোগে মামলা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ১৭ মাস পর কেন আমার নামে মামলা করল? আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। ঘটনার দুই-তিন মাস পর মামলা করলে তা–ও চলত।’
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযোগটি পুলিশ গ্রহণ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


