বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে ওঠা ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিবরণী অনুযায়ী, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পর্যালোচনার লক্ষ্যে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গ্রেড-১) কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সদস্যসচিব হিসেবে থাকবেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রেস-১)। এছাড়া তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমিটির অন্য দুই সদস্য।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি অভিযোগের বিষয়গুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেবে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বাসসে যা ঘটেছে, তা দুঃখজনক। বাসস একটা সরকারি সংবাদ সংস্থা। এখানে নিয়োগ, বহাল বা বাতিলের একটা বিধিবদ্ধ নিয়ম আছে। সরকার সেই নিয়মের মধ্যেই সবকিছু বিবেচনা করবে। যে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আলোচনা সাপেক্ষে বিধিবিধান অনুযায়ী তার সমাধান বের করা হবে।’
এর আগে বুধবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে বাসস কার্যালয়ে মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক-কর্মচারীদের একটি অংশ তাঁকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে। পরিস্থিতির মুখে তিনি কার্যালয় ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মাহবুব মোর্শেদ দাবি করেন, তাঁকে ‘অপসারণের’ জন্য ‘মব তৈরি করে’ চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘প্রিয় বিএনপি, আপনারা ক্ষমতায় আসছেন, আমি খুশি। আমি অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে আছি। এখন আপনারা আমাকে এই পদে না রাখতে চাইতেই পারেন। চুক্তি বাতিল ও অপসারণের নানা স্বীকৃত পদ্ধতি আছে। সেসব দিকে না গিয়ে অফিসে মব সৃষ্টি করে, হামলা করে, তালা দিয়ে সরাতে চাইছেন কেন?’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছরের জন্য বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়। সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরদিনই তাঁকে বিক্ষোভের মুখে কার্যালয় ছাড়তে হয়।
সিএ/এমই


