বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গৃহকর্মী রুপালী খাতুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) তাহমিনা আক্তার জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়া রিমান্ড শেষে আসামিকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করলেও শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা–পুলিশ। পরে এ মামলায় সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বীথি, গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগমসহ চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত সাফিকুর রহমানের পাঁচ দিন, তাঁর স্ত্রীর সাত দিন, রুপালী খাতুনের পাঁচ দিন এবং সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বাদী শিশুটির বাবা, যিনি পেশায় একজন হোটেল কর্মচারী। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের জুন মাসে ১১ বছর বয়সী মেয়েকে ওই বাসায় কাজে দেন। সর্বশেষ ২ নভেম্বর মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখেন তিনি। এরপর ৩১ জানুয়ারি বেলা দেড়টার দিকে বীথি ফোন করে জানান, তাঁর মেয়ে অসুস্থ, তাকে নিয়ে যেতে হবে। বিকেল দুইটার দিকে তিনি বাসায় গেলে অপেক্ষা করতে বলা হয়। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড়ির বাইরে মেয়েকে তাঁর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। মেয়েটি ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না। ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। পরে তিনি মেয়েকে গাজীপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে শিশুটি তাঁকে জানায়, ২ নভেম্বর বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে সাফিকুর রহমান, বীথিসহ অন্যরা তাকে মারধর করে এবং খুন্তি গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দেয়।
এ ঘটনার পর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন শিশুটির বাবা। পরবর্তীতে ৫ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলে তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে সরকার।
সিএ/এমই


