রমজান সামনে রেখে সরকার খেজুর আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড় (ট্যারিফ কমানো) এবং এলসি মার্জিন সুবিধা দিলেও বাজারে এর সুফল মিলছে না। বরং গত বছর কেজি ১৫০ টাকার খেজুর এখন প্রায় ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে—যা ভোক্তাদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
📈 ১) আমদানি বেড়েছে, কিন্তু বাজারে সরবরাহ কম দেখাচ্ছে
সরকারি তথ্যে দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় খেজুর আমদানি প্রায় তিনগুণ হয়েছে। কিন্তু বাজারে সেই অনুপাতে পণ্য পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
➡️ সম্ভাব্য কারণ: আমদানিকারক বা পাইকারি পর্যায়ে মজুত রেখে ধীরে ধীরে বাজারে ছাড়া।
🧩 ২) সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও ইঙ্গিত দিয়েছে—কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ায়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
➡️ অনেক সময় রমজানের আগে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রির জন্য পণ্য ধরে রাখেন।
🚚 ৩) আমদানির খরচ পুরোপুরি কমেনি
যদিও শুল্ক কমেছে, কিন্তু অন্যান্য খরচ এখনো বেশি:
ডলার রেট বৃদ্ধি
পরিবহন ব্যয়
বন্দর খরচ
সংরক্ষণ ব্যয়
ফলে পাইকারি দামে তেমন কমতি আসেনি বলে বিক্রেতাদের দাবি।
🏷️ ৪) আগের দামে কিনে আনা পুরোনো স্টক
বিক্রেতারা বলছেন, তারা আগেই বেশি দামে খেজুর কিনেছেন।
➡️ তাই কম দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে।
🌙 ৫) রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া
খেজুর ইফতারের প্রধান খাবার হওয়ায় এই সময়ে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
➡️ চাহিদা বেশি হলে দাম স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে—বিশেষ করে যদি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
🏦 ৬) এলসি সুবিধা থাকলেও বাস্তবে সবাই তা পায়নি
এলসি মার্জিন কমানো হলেও সব আমদানিকারক সমানভাবে সুবিধা পান না। ব্যাংকিং জটিলতা ও শর্তের কারণে অনেকেই উচ্চ খরচে আমদানি করেন।
🔎 সরকারের অবস্থান
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে—রমজানের পণ্যে সরবরাহ ঘাটতি নেই।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে—
👉 সিন্ডিকেট বা কারসাজি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
👉 বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে
👉 ভোক্তারা অভিযোগ করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে
🧠 সংক্ষেপে
দাম না কমার মূল কারণ একক নয় — বরং একাধিক বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে:
✔️ কৃত্রিম সংকট / মজুত
✔️ উচ্চ আমদানি ও পরিবহন ব্যয়
✔️ পুরোনো স্টক
✔️ রমজানের বাড়তি চাহিদা
✔️ বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব
সিএ/এসএ


