ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথগ্রহণ আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার বঙ্গভবনের বাইরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে এই শপথ অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।
নতুন মন্ত্রিসভায় কারা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় নতুন সরকারের কাছে এই খাত নিয়ে প্রত্যাশাও বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে মতামত দিচ্ছেন উদ্যোক্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং আইসিটি খাত সংশ্লিষ্টরা।
আইসিটি খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারের ভূমিকার মৌলিক পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন আইটি উদ্যোক্তা নিটন মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান। তার মতে, সরকারের নিজের সফটওয়্যার বা সিস্টেম নির্মাতা হওয়ার চেয়ে নীতিনির্ধারক, ডাটা কাস্টোডিয়ান ও রেগুলেটরের ভূমিকা পালন করাই বেশি জরুরি। তিনি বলেন, প্রচলিত টেন্ডারনির্ভর অনুদান বা স্বল্পমেয়াদী পিওসি মডেলের পরিবর্তে লাইসেন্সভিত্তিক একটি টেকসই কাঠামো চালু করা প্রয়োজন।
এই মডেলে সেবার মানের ভিত্তিতে জনগণ সরাসরি সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করতে পারবে এবং সরকার সেখান থেকে রাজস্ব আহরণের সুযোগ পাবে। এতে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মত দেন তিনি।
ডাটা ও অবকাঠামো উন্মুক্তকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবেদনশীল নাগরিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সরকারকে ডাটা কাস্টোডিয়ানের দায়িত্ব নিতে হবে। এস্তোনিয়ার এক্স-রোড মডেলের আদলে এপিআই এক্সপোজার চালু করা গেলে বেসরকারি উদ্যোক্তারা সরকারি ডাটা ব্যবহার করে জনবান্ধব বিভিন্ন সেবা তৈরি করতে পারবে। এর মাধ্যমে সরকার ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি করবে এবং উদ্যোক্তারা সেই ভিত্তির ওপর ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী ডিজিটাল আইডেন্টিটি ও ই-রেসিডেন্সি ব্যবস্থা চালু করা গেলে উদ্যোক্তারা যেকোনো স্থান থেকে অনলাইনে কোম্পানি নিবন্ধন, ব্যাংকিং ও কর পরিশোধের সুবিধা পাবেন। এতে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে এবং লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমবে। একই সঙ্গে গভর্নমেন্ট অ্যাজ আ প্ল্যাটফর্ম ধারণা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আইসিটি খাতে দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য বিশেষ তহবিল ও কর ছাড়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন কামরুজ্জামান। তার মতে, বেসরকারি খাতের সঙ্গে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা স্পেশাল পারপাস ভেহিকল মডেলে কাজ করলে সরকার ও উদ্যোক্তা উভয়ই দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবে।
বিদেশের বাজারে দেশীয় সফটওয়্যারের প্রসার ঘটাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা এবং যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, লোননির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ ও এসএমইবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশের আইসিটি খাত দ্রুত বৈশ্বিক পর্যায়ে এগিয়ে যেতে পারবে।
সিএ/এমআর


