মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নজিরবিহীন সামরিক শক্তি জড়ো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরুর পর এই অঞ্চলে এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় বিমান শক্তি সমাবেশ বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে অঞ্চলটিতে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর রণতরী পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২০০৩ সালের ১৯ মার্চ ইরাকে বিমান হামলা এবং পরদিন স্থল অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় আট বছর ধরে চলা সেই যুদ্ধ ২০১১ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। ওই সময়ের পর এবারই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে এত বড় সামরিক সমাবেশ ঘটল বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে একই সময়ে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা যেকোনো সময় অভিযানের জন্য প্রস্তুত। এমনকি চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যেই সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে অঞ্চলটিতে ডজনখানেক উন্নত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এসবের মধ্যে এফ-১৬, এফ-২২ এবং এফ-৩৫ ধরনের আধুনিক ফাইটার জেট রয়েছে। পাশাপাশি একাধিক বিমানবাহী রণতরীও পাঠানো হয়েছে, যা সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড পারস্য উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে। এটি পৌঁছালে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়বে।
অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৫০টির বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন।
সূত্র
সিএ/এসএ


