বর্তমান সময়ে ল্যাপটপের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারির কার্যকারিতা একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশির ভাগ ল্যাপটপেই পুনরায় চার্জযোগ্য লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। তবে ব্যবহারকারীদের কিছু সাধারণ ভুলের কারণে এসব ব্যাটারির আয়ন ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ল্যাপটপ আগের মতো দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভুলের বেশির ভাগই দৈনন্দিন ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত এবং অনেকেই বিষয়টি না জেনেই করে থাকেন। দীর্ঘমেয়াদে এসব অভ্যাস ল্যাপটপের ব্যাটারির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
চার্জ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত চার্জ দেওয়ার অভ্যাস ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এতে ব্যাটারির আয়ু কমে যায়। সাধারণভাবে ব্যাটারির চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নামলে চার্জ দেওয়া এবং ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পূর্ণ হলে চার্জার খুলে নেওয়াই উত্তম।
অনেকে আসল চার্জারের পরিবর্তে ভিন্ন বা নকল চার্জার ব্যবহার করেন। এসব চার্জার সঠিক ভোল্টেজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়, যা ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর। ফলে ব্যাটারির স্থায়িত্ব কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ল্যাপটপ ব্যবহারের স্থানও ব্যাটারির কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলে। বিছানা বা কম্বলের ওপর দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ রাখলে তাপ বের হতে পারে না। এতে ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। তাপ ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু হওয়ায় এর ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়।
পাওয়ার সেভার মোড ব্যবহার না করাও একটি বড় ভুল। এই মোড চালু রাখলে কম শক্তি খরচ হয় এবং ব্যাটারির ওপর চাপ কম পড়ে। বিপরীতে, এই সুবিধা ব্যবহার না করলে চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং বারবার চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।
ব্যাটারির চার্জ পুরোপুরি শেষ করে ফেলা আরেকটি ক্ষতিকর অভ্যাস। এতে ব্যাটারির আয়ু দ্রুত কমে যায়। পাশাপাশি অপারেটিং সিস্টেম ও ড্রাইভার নিয়মিত হালনাগাদ না করলে ব্যাটারির কার্যকারিতাও প্রভাবিত হয়। নিয়মিত হালনাগাদে ব্যাটারির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
সিএ/এমআর


