চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় রাতের আঁধারে একটি সরকারি টিলা কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ধাপে ধাপে টিলাটি কেটে ফেলা হচ্ছে। সর্বশেষ গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে টিলার দক্ষিণ পাশে ভারী যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে।
উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নে অবস্থিত প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার টিলাটি স্থানীয়ভাবে ‘কালুনির বর পাহাড়’ নামে পরিচিত। প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত টিলাটি ফলদ, বনজ ও ভেষজ গাছগাছালিতে আচ্ছাদিত ছিল। নির্জন পরিবেশে পাখিদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এ টিলা এখন ক্রমেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে প্রায় ২০ শতক অংশ কেটে ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
লোহাগাড়া উপজেলা সদর থেকে দরবেশ হাট ডিসি সড়ক ধরে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে পুটিবিলা এম চর হাট বাজার। সেখান থেকে পূর্ব দিকে আরও প্রায় ৫ কিলোমিটার এগোলে গজালিয়া দিঘির পাড় এলাকা। ওই এলাকা থেকে পহর চাঁন্দা সড়ক হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে দুই কিলোমিটার গেলে পহর চাঁন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ মিটার আগে সেকান্দার পাড়া সড়ক নামে একটি কাঁচা সড়ক দক্ষিণে নেমেছে। সেই পথ ধরে প্রায় ৮০০ মিটার এগোলেই চিকন ঘোণা এলাকায় টিলাটির অবস্থান।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিলার আশপাশে কোনো ঘন বসতি নেই। তবে পাদদেশে অন্তত আটটি মাছের খামার রয়েছে। টিলার দক্ষিণ পাশে এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কাটার দাগ এবং কাটা গাছপালা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় এক বছর ধরে রাতের বেলায় টিলাটি কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, সাধারণত রাত ১২টার পর এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে তুলে নেওয়া হয়। এসব মাটি বাড়িঘর ভরাট ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাসিন্দাদের দাবি, টিলাটি একসময় আবদুস সালাম নামের এক ব্যক্তির দখলে ছিল। বর্তমানে পহর চাঁন্দা গ্রামের আবছার উদ্দিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। টিলার পাশের মাছের খামারগুলোও তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবছার উদ্দিন বলেন, ‘টিলা কাটায় আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এলাকার কারও জায়গা ভরাটের প্রয়োজন হলে তাঁরা নিজেরাই টিলার মাটি কেটে নিয়ে যান।’
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬ (খ) ধারা অনুযায়ী, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা অপসারণ করা নিষিদ্ধ। কেবলমাত্র অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটা যেতে পারে।
লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, ‘কোনোভাবেই পাহাড়-টিলা কাটা যাবে না। আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে টিলা কাটায় জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব।’
সিএ/এমই


