রমজান মাস মুসলমানদের জন্য সংযম, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার অনুশীলনের সময়। প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক মুসলমানদের ওপর রোজা ফরজ। তবে ইসলাম একটি সহজ ও মানবিক জীবনব্যবস্থা হওয়ায় বিশেষ কিছু অবস্থায় রোজার বিধানে শিথিলতা রাখা হয়েছে।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, সফররত ব্যক্তি বা মুসাফিরের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। পরে সুবিধামতো তা কাজা করে নেওয়া যাবে। তবে কষ্ট না হলে সফর অবস্থাতেও রোজা রাখা উত্তম বলে বিবেচিত।
রমজানের দিনে হায়েজ ও নেফাসগ্রস্ত নারীদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। তারা পরবর্তীতে ওই দিনের রোজা কাজা করবেন। দিনের মধ্যে পবিত্র হলে রমজানের সম্মান রক্ষায় অবশিষ্ট সময় পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
অসুস্থ ব্যক্তি যদি আশঙ্কা করেন যে রোজা রাখলে রোগ বেড়ে যাবে বা সুস্থ হতে বিলম্ব হবে, তবে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর কাজা করতে হবে। তবে হালকা অসুস্থতার অজুহাতে রোজা ভাঙা বৈধ নয়।
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীর ক্ষেত্রে নিজের বা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে রোজা না রাখার সুযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে সেই রোজা কাজা করতে হবে।
বার্ধক্য বা জটিল রোগের কারণে যিনি স্থায়ীভাবে রোজা রাখার সামর্থ্য হারিয়েছেন, তার জন্য রোজা ফরজ নয়। তিনি প্রতিটি রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া প্রদান করবেন। নাবালেগ শিশুদের ওপরও রোজা ফরজ নয়, তবে শারীরিকভাবে সক্ষম হলে ধীরে ধীরে রোজায় অভ্যস্ত করা উত্তম।
ইসলামে রোজা ফরজ ইবাদত হলেও তা কষ্টসাধ্য করে তোলাই উদ্দেশ্য নয়। বরং আল্লাহ তাআলা মানুষের সামর্থ্য ও অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে বিধানে শিথিলতা দিয়েছেন।
সিএ/এমআর


