রাজশাহীর সাংবাদিক কামাল মালিক (৫৫) তার স্ত্রী রওশন আরার মৃত্যুর পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে মারা গেছেন। ৩০ জানুয়ারি থেকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন, কামাল মালিক একধরনের রাসায়নিক পান করেছিলেন। তাঁর চার হাত-পায়ও জখমের চিহ্ন ছিল। পুলিশ ৩০ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। প্রথমে আইসিইউতে রাখা হয়, পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার দুপুরে তিনি সেখানেই মারা যান।
কামাল মালিক রাজশাহীর স্থানীয় দৈনিক রাজশাহী সংবাদের উপসম্পাদক ছিলেন। তিনি নগরের হড়গ্রাম বাজারের একটি তিনতলা বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। ৩০ জানুয়ারি ৯৯৯ কল পেয়ে পুলিশ বাসায় যায়। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ করে। তখন কামাল মালিককে বিছানায় অসুস্থ অবস্থায় এবং স্ত্রী রওশন আরাকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। রওশন আরার গলায় কাপড় প্যাঁচানো ছিল। পুলিশ দুজনকেই হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রওশন আরাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করেছে, পারিবারিক কলহের জেরে রওশন আরাকে হত্যার পর কামাল মালিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ঘটনার পরদিন কামাল মালিকের শ্যালক শাহাদত হোসেন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে কামাল মালিককে একমাত্র আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরহাদ আলী জানান, মৃত্যুর পর কামাল মালিকের মরদেহ রামেকের মর্গে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত করা হবে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তদন্ত এখনো চলছে এবং কীভাবে ঘটনা ঘটেছে তা জানার চেষ্টা চলছে।
সিএ/এমই


