চট্টগ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উত্তর জেলার কার্যালয়ে দলীয় পরিচিতি ফলক লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকেলে দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রাত আটটায় নগরের নিউমার্কেটের দোস্ত বিল্ডিংয়ে অবস্থিত কার্যালয়টি পরিদর্শন করলে ফলক আর দেখা যায়নি। কার্যালয়েও তালা দেওয়া ছিল।
রাতে কার্যালয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। ছড়িয়ে পড়া ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি একটি ব্যানার হাতে নিয়ে কার্যালয়ের দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। দরজার ঠিক ওপরে ব্যানারটি সাঁটিয়ে দেন। ভিডিওতে তাদের স্লোগান শোনা যায়নি, তবে ভিডিও ধারণকারীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনা গেছে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, তারা জয় বাংলা স্লোগান দেন এবং কার্যালয়ে টানানো থাকা এনসিপির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। তবে ভিডিও কখন ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
রাতে এনসিপির চট্টগ্রাম নগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। প্রশাসন থাকা সত্ত্বেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যালয়ে ব্যানার টানানো হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা পুলিশের একটি দল পাঠিয়েছি। সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং ব্যানারও ছিল না। কক্ষগুলোতে তালা দেওয়া ছিল।’
গত বছরের ২১ অক্টোবরও এনসিপির এক নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার কার্যালয় দখলের অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ কার্যালয়ের সামনের দেয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এতে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের উপস্থিতি ছিল।
দোস্ত বিল্ডিংয়ে আওয়ামী লীগ ছাড়া বিএনপি, বাসদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই কার্যালয়ে এক দফা ভাঙচুর করা হয়। এর পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল।
সিএ/এমই


