সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংগঠনটি বলছে, প্রাণহানি, রাজনৈতিক ও পূর্বশত্রুতাজনিত হামলা, সংঘর্ষ, নারী নির্যাতন এবং অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্রকে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমএসএফ এই দাবি জানায়। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলা—বিশেষ করে ভোলা, নাটোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল, গাজীপুর, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নেত্রকোনা, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, গাইবান্ধা, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড়, নরসিংদী, লালমনিরহাট এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জে হামলার ঘটনায় সাড়ে তিন শ রাজনৈতিক কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যালয় ও কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ও দৃশ্যমান আইনানুগ ব্যবস্থা যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়নি। বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী অধিকতর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
এমএসএফের মতে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মৌলিক নৈতিক দায়িত্ব। নির্বাচন-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়, পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সহিংসতা বন্ধ করবে, দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে—এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দল, সচেতন নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহিংসতা প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিএ/এমই


