পার্থিব জীবনে মানুষ অনেক শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে জমি বা ফ্ল্যাটের মালিক হওয়ার জন্য। তবে পৃথিবীর এই অস্থায়ী সুরম্য বাড়ি মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। জান্নাতের অনন্ত নীড়ের জন্য কি আমরা ততটাই সচেতন?
আল্লাহ তাআলা তাঁর নেককার বান্দাদের জন্য জান্নাতে এমন নেয়ামত প্রস্তুত রেখেছেন যা চোখ, কান বা মানুষের কল্পনায় কখনো আসতে পারে না। সেখানে ঘোষণা করা হবে, তোমরা চিরকাল সুস্থ থাকবে, কখনো দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করবে না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৭)
জান্নাতের ঘরগুলো কেবল ইট-পাথরের নয়, বরং মুমিনের আমল ও তাকওয়ার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, সেখানে প্রবাহমান ঝরনাধারা, সুউচ্চ আসন, বিশিষ্ট পানপাত্র, সারি সারি বালিশ ও গালিচা থাকবে।
সন্তান হারানোদের জন্য আল্লাহ জান্নাতে বিশেষ ঘর বরাদ্দ করেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০২১) খাদিজা (রা.)-এর জন্য আল্লাহ মুক্তার তৈরি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন, যেখানে কোনো শোরগোল বা ক্লান্তি থাকবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৮২১)
জান্নাতে মহীয়সী নারীদের জন্য বিশেষ আবাস রয়েছে। নবীদের অনুসরণকারী মুমিনরা উজ্জ্বল প্রাসাদের মালিক হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৫৬) স্বচ্ছ কক্ষ থাকবে তাদের জন্য যারা বিনয়ী, নামাজি ও সাহায্যপ্রিয়। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৮৪)
জান্নাতে তিনটি বিশেষ ঘরের নিশ্চয়তা রয়েছে—সত্যনিষ্ঠ বিতর্কবর্জক, মিথ্যা না বলা এবং সুন্দর চরিত্রধারীদের জন্য। তর্কে জয়ী বা মিথ্যা আশ্রয় ছেড়ে আখেরাতের জন্য কাজ করতে হবে।
সিএ/এমআর


